LAC-তে কোনও বাফার জোন নয়, টহলদারি বন্ধ করল ভারত ও চিন

পূর্ব লাদাখের চারটি সংঘাত অবস্থান থেকে কমপক্ষে ৬০০ মিটার সরে গিয়েছে ভারত ও চিনের সেনা।জানা গিয়েছে, ১,৫৯৭ কিমি দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)  বরাবর অন্যান্য অবস্থান থেকেও পিছু হঠেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এর আগে শোনা গিয়েছিল, পূর্ব অবস্থান থেকে দেড় কিমি পিছিয়ে গিয়েছে পিএলএ। ভারতীয় সেনা আধিকারিকদের মতে, এর মানে দুই পক্ষের মধ্যে কোনও বাফার জোনের অস্তিত্ব রইল না।

এক শীর্ষ স্থানীয় সেনা কম্যান্ডার বলেন, ‘যা হয়েছে তা হল, দুই পক্ষই পিছিয়ে এসেছে যাতে কোনও দুর্ঘটনা বা হঠাৎ উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি না হয়।’ এই প্রেক্ষিতেই শনিবার বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম জয়শংকর জানিয়েছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়া মেনে চিনের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার কাজ চলেছে।

আরও পড়ুন : মায়ের গর্ভ থেকে করোনা নিয়েই জন্ম শিশুর , বিরল এই ঘটনা দেশে এই প্রথম!

শনিবার বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম জয়শংকর জানিয়েছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়া মেনে চিনের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার কাজ চলেছে। শুক্রবারই ভারত ও চিন জানিয়েছিল, গালওয়ান উপত্যকার দখল নিয়ে মতান্তরের মাঝেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার পদ্ধতি কার্যকর এবং উত্তেজনা প্রশমিত করার বিষয়ে চলেছে।

লাদাখের ফিঙ্গার ৪ এলাকা থেকে আরও কিছু সেনা সরিয়ে নিল চিন। প্যাংগং হ্রদ থেকে তাদের কিছু নৌকাও সরে গিয়েছে। তবে প্যাংগং এলাকায় এখনও চিনা সেনার আংশিক উপস্থিতি রয়েছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে।
গালওয়ান উপত্যকায় দু’পক্ষ যে শর্তে সেনাদের পিছিয়েছে, তাতে এক কিলোমিটার অঞ্চল চিনের দখলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তেমনই হটস্প্রিং এবং প্যাংগং এলাকা থেকেও চিনের সেনা সরানোর শর্ত হিসেবে কিছু জমি ভারত খোয়াতে চলেছে কি না, সেই আশঙ্কার কথাও উঠছে নানা মহলে।

ভারত চায়, চিন ফিঙ্গার ৮-এ তার ছাউনিতে ফিরে যাক। সিরিজাপ ১ ও ২-এ তাদের পাকা ঘাঁটিতে চলে যাক। কিন্তু চিনের পিপলস নিবারেশন আর্মি ফিঙ্গার-২ পর্যন্ত দখল চায়।ফিংগার রিজিয়নের আটটি ফিংগার ভারতের অন্তর্গত বলে বরাবরই দাবি করে এসেছে নয়াদিল্লি। এই আট ফিংগার যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখানেই ভারত-চিন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা। তবে এই বিষয়ে চিনের দাবি কিছুটা আলাদা। চিনের মতে, চার নম্বর ফিংগার পর্যন্ত ভারতের এলাকা এবং বাকি চারটি ফিংগার চিন সীমান্তের মধ্যে পড়ছে।

এই বছরের মে মাসে আট নম্বর ফিংগারের দিকে টহল দিতে যাওয়ার পথে ভারতীয় বাহিনীর পথ আটকেছিল চিনা সেনা। ভারতীয় জওয়ানরা এর প্রতিবাদ করায় দুতরফে সংঘর্ষ বেধেছিল।ভারতীয় সেনা কম্যান্ডার জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্বচ্ছ রাখার উদ্দেশে দিনের আলোতেই সামরিক পরিকাঠামো খোলা এবং সাঁজোয়া গাড়ির সারি পিছানোর মতো পদক্ষেপ করছে পিএলএ। চিন চায়, সংঘাতের বাতাবরণ এড়াতে ভারতও অনুরূপ পদক্ষেপ করুক।

আরও পড়ুন : করোনায় আক্রান্ত অমিতাভ বচ্চন, ভর্তি করা হল নানাবতী হাসপাতালে