সুসংহত পরিকাঠামো উন্নয়ন, ভোকাল ফর লোকাল- একনজরে মোদীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ

করোনা আবহে দেশের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। লাল কেল্লা থেকে সপ্তম বারের জন্য জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গোটা দুনিয়ার সঙ্গে ভারতও এই মুহুর্তে করোনার মতো ভয়াল অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। তাই এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দিলেন সে দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ।

করোনার সময়েই দেশকে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার বার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী।  ২০১৯-এর স্বাধীনতা দিবসে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ৫ লক্ষ কোটি টাকা করার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করোনার প্রকোপে ধাক্কা খেয়েছে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কোন দিশা দেখান সে দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। সেই প্রেক্ষিতে করোনার বিরুদ্ধে ভারত কতটা লড়াই করছে সে কথাও তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের মতো এই অতিমারির প্রতিষেধক তৈরির লড়াই চালাচ্ছে ভারতও, এ কথাও জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিনই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেন মোদী। সূচনা করেন জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ডের। এছাড়াও নাম করে চিন ও পাকিস্তানকেও কড়া বার্তা দেন তিনি।

এক নজরে মোদীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ…

* লাল কেল্লা থেকে ‘ন্যাশনাল ডিজিটাল হেল্থ মিশন’ এর ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল ডিজিটাল হেল্থ মিশন ভারতের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে। এবার থেকে প্রত্যেক দেশবাসীর স্বাস্থ্য পরিচয় পত্র থাকবে। এই কার্ডে প্রতিটি টেস্ট, প্রতিটি অসুস্থতা, কখন কী শরীরা খারাপ হয়েছিল, সব তথ্য থাকবে।’

* ‘করোনাভাইরাস মহামারী বড় সমস্যা। কিন্তু তা আত্মনির্ভর ভারতের পথে অন্তরায় হতে পারবে না। আমি সহমত যে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য লক্ষাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা থাকলে তা আরও বৃদ্ধি পায়। তবে লক্ষ লক্ষ চ্যালেঞ্জ থাকলে আমাদেরও দেশেরও ক্ষমতা রয়েছে কোটি কোটি সমাধানের। আমার দেশবাসীই আমাদের সমাধানের শক্তি।’

আরও পড়ুন: ‘এক দেশ এক স্বাস্থ্যকার্ড’! এবার ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ মিশনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

* করোনার ভ্যাকসিন কবে বাজারে আসবে। এই নিয়ে দেশবাসীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই। এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘দেশের মানুষের একটা বড় প্রশ্ন ভারতে ভ্যাকসিন কবে পাওয়া যাবে। আমি সবাইকে বলতে চাই ভারতে এই মুহূর্তে তিনটে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। এই তিনটি ট্রায়াল আলাদা আলাদা পর্যায়ে রয়েছে। একবার সবুজ সঙ্কেত পেলেই তার গণ উৎপাদন শুরু হবে। কম দামে ও কীভাবে দেশের সবার মধ্যে এই ভ্যাকসিন ছড়িয়ে দেওয়া হবে তার রূপরেখাও তৈরি আছে।’

* ‘করোনা আবহেই মধ্যে ১৩০ কোটি ভারতীয় স্বাবলম্বী হওয়ার সংকল্প নিয়েছিলেন এবং দেশবাসীর মনে ছিল আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনা। এই স্বপ্ন এখন অঙ্গীকারে পরিণত হচ্ছে। আত্মনির্ভর ভারত ১৩০ কোটি দেশবাসীর মন্ত্রে পররিণত হয়েছে।’

* ‘স্বাধীন ভারতের মানসিকতা হওয়া উচিত ‘ভোকাল ফর লোকাল’। আমাদের স্থানীয় পণ্যের প্রশংসা করতে হবে, তা ক্রয় করতে হবে। আর তা না হলে, ভালো করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী মোদী

* প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘আমদানি কম করার বিষয়ও ছাপিয়ে যেতে হবে আমাদের। উদ্ভাবনের দিকে নজর দিতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে হবে, এ জন্য আমাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ আমাদের যুবকদের জন্য বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে। ত বছরের তুলনায় এফডিআই-এর প্রবাহ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। আজ বিশ্বের অনেক বড় সংস্থা ভারতে বিনিয়োগ করছে।’

* ভারত-পাক সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ইন্দো-চিন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা- ভারতের সার্বভৌমত্বের দিকে যে চোখ দেওয়ার চেষ্টা করবে আমাদের সেনারা তাদের ভাষাতেই সমান জবাব দেবে। ইতিমধ্যেই লাদাখে তা দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান জানাচ্ছি।’

* স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও মোদীর মুখে রামজন্মভূমির কথা। তিনি বলেছেন, ‘দশ দিন আগে অযোধ্যায় রামমন্দিরে ভূমি পুজো হয়েছে। শতাব্দী প্রচান বিতর্কের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। দেশবাসীর আচরণ ও ভূমিকা অভূতপূর্ব এবং তা ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা।’

* ‘আমাদের দেসে হাজারেরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান ও দেশের উন্নয়নে সেগুলির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে দ্বীপসমুহের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী ১০০ দিনে লাক্ষা দ্বীপ সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে সংযুক্ত হবে।’ লাল কেল্লায় জানিয়েছেন মোদী।

* ‘শীঘ্রই নয়া সাইবার সুরক্ষা নীতি নিয়ে আসা হবে।’ লাল কেল্লায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: স্থিতিশীল রয়েছেন বাবা, সাড়া দিচ্ছেন চিকিৎসায়, জানালেন প্রণব-পুত্র অভিজিৎ