সার্টিফিকেটে মোদীর মুখ, তৃণমূলের আপত্তির জেরে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে জবাব চাইল কমিশন

ভোট ঘোষণা হওয়ার পর কেন প্রধানমন্ত্রীর (PM Narendra Modi) মুখ সরকারি নথিতে, প্রশ্ন তুলে কমিশনের (Election Commission) দ্বারস্থ হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তারপরও কেন ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) ছবি? এই প্রশ্ন তুলেই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। আর তার জেরেই এবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Union Health Ministry) কাছে জবাব চাইল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘প্রথমে সত্যটা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। জানতে হবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নির্দেশেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া শংসাপত্র বিলি করা হচ্ছিল কি না। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের মতামত জানা প্রয়োজন।’’ নির্বাচনে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে টিকার শংসাপত্রে মোদীর ছবি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই যেহেতু অভিযোগ জমা পড়েছে, তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের কাছ থেকেও এ নিয়ে সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।

আগামী ২৭ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তার নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। নিয়ম মাফিক ভোটের দিন ক্ষণ ঘোষণার দিন থেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হয়ে যায়। তার পরেও বিজেপি-র প্রচারক মোদীর ছবি-সহ করোনার শংসাপত্র বিলি নিয়ে আপত্তি তোলে তৃণমূল।

আরও পড়ুন: দিল্লি পুরনিগমের উপনির্বাচনে বড় সাফল্য আপের, খালি থাকল বিজেপির ঝুলি

চলতি সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশনে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এভাবে সরকারি নথিতে মোদীর ছবির ব্যবহার নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ করেছে। এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান তাঁরা। শুধু করোনা টিকার শংসাপত্রেই নয়, পেট্রোল পাম্প এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞাপনে মোদীর ছবি নিয়েও আপত্তি তোলেন তাঁরা।

টুইটারে এই অভিযোগ নিয়ে প্রথমেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি লিখেছিলেন, ‘ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তার পরেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি করোনা টিকার নথিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্লজ্জের মতো।’

এর পর বৃহস্পতিবার ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান। শুধু করোনা টিকার শংসাপত্রেই নয়, পেট্রোল পাম্প এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞাপনে মোদীর ছবি নিয়েও আপত্তি তোলেন তাঁরা। তার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হল কমিশন। যদিও বুধবারই নির্বাচনমুখী সমস্ত রাজ্যের পেট্রোল পাম্প থেকে মোদীর ছবি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় তারা।

আরও পড়ুন: OTT প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফিও দেখানো হয়! কেন্দ্রকে কড়া নজরদারির ‘সুপ্রিম’ নির্দেশ