ছ’বছরে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মাথায় হাত দেশের

সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গেল অক্টোবর। গত মাসে দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছাল ৭.৬১ শতাংশে। যা গত ছ’বছরে সবথেকে বেশি। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ৩.০ আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণার দিনই পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সেই তথ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকারের উদ্বেগ রীতিমতো বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

অর্থনীতির ঝিমুনির মধ্যে মধ্যবিত্ত বোঝা বাড়িয়েছে খুচরো মূল্যসূচকও। দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যপণ্যের দাম বেশি থাকার ফলে ২০১৪ সালের মে’র পর খুচরো মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : অর্ণবের জামিন নিয়ে বিদ্রুপ,আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হতে চলেছে কুনাল কামরার বিরুদ্ধে

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেঁয়াজ, আলু-সহ অন্যান্য আনাজপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য অক্টোবরে শহর এবং গ্রামের মিলিত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ১১.০৭ শতাংশ ঠেকেছে। যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৯.৭৩ শতাংশ। অক্টোবরে মাংস এবং মাছের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ এবং আনাজের দাম বেড়েছে ২২.৫১ শতাংশ।

এমনিতে মূল্যবৃদ্ধির হারকে চার শতাংশে (+-/২) বেঁধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু টানা সাত মাস সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুচরো বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে শুধুমাত্র গ্রাহকদের উপর প্রভাব পড়ে না, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পদক্ষেপও ব্যাহত হয়। বিশেষত মহামারীর মধ্যে ধুঁকতে থাকা ক্ষেত্রগুলিতে প্রাণ ফেরানোর জন্য সুদের হার কমানোর সুযোগও কমে যায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।

বিষয়টি নিয়ে আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ অঙ্ঘনা দেওধরের মতে, কড়া বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি থেকে ইঙ্গিত মেলে যে সমস্যা আরও জটিল এবং তা আগামিদিনেও থাকবে।

শাসক দল মতান্তরে কেন্দ্রীয় সরকার সবটাই অবশ্য কোরোনার ঘাড় দিয়ে চালাতে চাইছে। যদিও গোটা দেশ জানেন এর সূত্রপাত হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির ‘নোটবন্দি’ নামক ‘মোদীও’ খেয়ালীপনায়। তারপর থেকেই বাজারের স্পন্দন কমে যায়। বিরোধী দল সামলানো আর অর্থনীতি সামলানো যে এক জিনিস নয় তা শাসক দল যতদিন না বুঝবে ততদিনে দেশের চরম বিপদ।

আরও পড়ুন : সম্পর্কের শুরুতেই ফোন সেক্স! সতর্ক থাকুন এই ৫টি বিষয়ে…