দেশে কথা বলার স্বাধীনতা আছে কি ? মোদী সরকারকে খোঁচা সোনিয়ার

লাল কেল্লায় দাঁড়িয়ে ফের আত্মনির্ভরতার কথা শোনান প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষণে যেমন আবেগের বাড়বাড়ন্ত থাকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও তাই ছিল। আস্ফালন ছিল। হুঙ্কার ছিল। কেবল মুখে চীনের নাম ছিল না। লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলনের পরে একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সেই দিনেই মোদী সরকারকে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। বললেন, এই সময়টা ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে কঠিন সময়।নিজের স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় সনিয়া গান্ধী বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে বর্তমানে সরকার গণতান্ত্রিক কাঠামো, সংবিধান ও সংস্কৃতির ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে কঠিন সময়।”

আরও পড়ুন : হাড়হিম করা নৃশংসতা ! ধর্ষণের পর চোখ উপড়ে, জিভ কেটে খুন যোগী রাজ্যে

নিয়া বলেন, “মনে হয়, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং চিরাচরিত ঐতিহ্যের বিপরীতে অবস্থান করছে। ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে এ বড় পরীক্ষার সময়।” কেন এ কথা মনে করেন সনিয়া? সে উত্তরও দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। সনিয়ার জিজ্ঞাসা, “আজ এ দেশে লেখালেখি করা, মতামত জাহির করার, প্রশ্ন করার, বিরুদ্ধ মত পোষণ করার, নিজস্ব মতামত বজায় রাখার বা জবাবদিহি করার স্বাধীনতা আছে কি?”

সনিয়া আরও বলেন, “বিরোধী দল হিসেবে এটা আমাদের কর্তব্য, যে আমরা ভারতের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য যতটা পরিশ্রম করার করব। আজ কি ভারতে লেখার, কথা বলার, প্রশ্ন করার, ভিন্ন মত পোষণ করার, সম্মতি না দেওয়ার অধিকার রয়েছে?”

লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় জওয়ানদের উপর চিনা সেনার হামলার প্রসঙ্গ তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এলওসি অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে এলএসি অর্থাৎ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পর্যন্ত যখনই ভারতকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, আমাদের জওয়ানরা তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন। যে ভাষায় তারা বোঝে, সেই ভাষাতেই তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। আমাদের জওয়ানরা কী করতে পারেন, আমাদের দেশ কী করতে পারে, তা লাদাখে গোটা বিশ্ব দেখেছে। আজ আমি লালকেল্লা থেকে সেই সব বীর সেনানিদের শ্রদ্ধা জানাই।”

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে সনিয়া বলেন, “আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি আমরা সবাই মিলে একদিন এই অতিমারীকে হারিয়ে জয়ী হব।” একই সঙ্গে তিনি ভারতের অর্থনীতি নিয়ে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একথা অস্বীকারের উপায় নেই করোনার সংকটের আগে থেকেই দেশের আর্থিনীতিতে ঝিমুনি ধরার কথা শুনিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন : প্রণবের শারীরিক অবস্থার কোনও হেরফের হয়নি, জানাল হাসপাতাল