পর্বতের মূষিক প্রসব !প্রশান্ত ভূষণকে ১ টাকা জরিমানা সুপ্রিম কোর্টের ! অনাদায়ে ৩ মাসের জেল

পর্বতের মূষিক প্রসব বলে একটা প্রবাদ আছে। কিন্তু এত তাও নয়। এমন তর্জন-গর্জনের পর যা হল , তা বড়জোর পর্বতের কুঁচফল প্রসব বলা যেতে পারে। আদালত অবমাননার দায়ে প্রশান্ত ভূষণকে এক টাকা জরিমানা করল সুপ্রিম কোর্ট। তা দিতে না পারলে তিন বছর প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং তিন মাসের জেল হবে।এদিন সুপ্রিম কোর্ট বলে কারও বাক স্বাধীনতায় কোনওভাবে ছেঁটে ফেলা যায় না।

আদালত অবমাননার শাস্তি ১ টাকা জরিমানা। প্রশান্ত ভূষণ মামলায় সোমবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জরিমানা হিসেবে এই এক টাকা দিতে হবে প্রশান্ত ভূষণকে। জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদণ্ড হবে অথবা তিন বছরের জন্য তিনি আইনজীবী হিসেবে কোনও মামলায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।

আরও পড়ুন : Breaking: লাদাখ সীমান্তে ফের সংঘাত, প্যাংগংয়ে ঢোকার চেষ্টা চিনের, আটকে দিল ভারতীয় সেনা

গত ২৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে একটি টুইট করেছিলেন ভূষণ। লেখেন, ‘সরকারিভাবে জরুরি অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও গত ছ’বছরে কীভাবে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, তা দেখার সময় সেই ধ্বংসে ইতিহাসবিদরা সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখবেন এবং আরও বিশেষ করে ভারতের শেষ চারজন প্রধান বিচারপতির ভূমিকা (চিহ্নিত করবেন)।’

দু’দিন পর প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদকে নিয়ে টুইট করেন বিখ্যাত আইনজীবী ও সমাজকর্মী। তিনি বলেন, ‘মাস্ক বা হেলমেট না পরেই নাগপুরের রাজভবনের এক বিজেপি নেতার ৫০ লাখ টাকার মোটরসাইকেল চালিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। সেই সময়, যখন তিনি সুপ্রিম কোর্টকে লকডাউন মোডে রেখে নাগরিকদের বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।’

ভূষণের টুইটের প্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান মেহেক মাহেশ্বরী নামে এক আইনজীবী। তবে পিটিশন দাখিলের আগে নিয়ম মোতাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপালের সম্মতি নেননি মাহেশ্বরী। মাহেশ্বরীর আর্জির ভিত্তিতে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে ২২ জুলাই আইনজীবী ভূষণকে নোটিশ পাঠায় শীর্ষ আদালত।

চলতি মাসের পাঁচ তারিখ শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানি হয় এবং ১৪ অগস্ট ভূষণকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত অবমাননার জন্য তাঁর কী শাস্তি হবে, সেই সিদ্ধান্তের জন্য ২০ অগস্ট মামলার শুনানি ধার্য করা হয়।

সেদিন শুনানির সময় ভূষণ জানান, নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি। একটি বিবৃতি পড়ে ভূষণ দাবি করেন, তাঁর উদ্দেশ্যের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেদিন অবশ্য শাস্তি নিয়ে আর শুনানি হয়নি। বরং নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ভূষণকে দু’দিন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন : দেখা দিয়েছে ‘সেপটিক শক’, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার অবনতি