মোদীর বাবার চায়ের দোকান কোথায় ছিল? কোনও তথ্য নেই রেলের কাছেই!

তিনি চা ওয়ালা ছিলেন। চা বিক্রি করে এই জায়গায় এসেছেন। ছেলেবেলায় খুব গরিব ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই কথাগুলি যে কতবার প্রচার করেছেন,তার ঠিক নেই। এই চা ওয়ালা ইমেজকে সামনে রেখে মোদী ভোট লড়াই করেছেন। চেয়ে পে চর্চা করেছেন। ভোট জিতেছেন। বহু বক্তিমে এবং মন কি বাত এক তরফা শুনিয়েছেন।গত ছ’বছরে বার বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে ঘুরেফিরে এসেছে সেই অভিজ্ঞতার কথা। কিন্তু তাঁর বাবার সেই চায়ের দোকান সম্পর্কে কোনও তথ্যই নেই নেই পশ্চিম রেলের কাছে। তাই এক ব্যক্তির আবেদনে ইতি টেনে দিল সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশন।

বিভিন্ন সময়ে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, গুজরাটের ভাডনগর স্টেশনের বাইরে বাবার চায়ের দোকানে চা বিক্রিও করতেন নরেন্দ্র মোদী। যদিও তার কোনও তথ্য প্রমাণ এ যাবতকাল দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে রহস্যের জট পাকিয়েছিল। এর পরই আইনজীবী ও সমাজকর্মী পবন পারেখ তথ্য জানার অধিকার আইনে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা গেল নয়া বেঞ্চে

পশ্চিম রেলের সেন্ট্রাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছে এ নিয়ে আবেদনে পবন পারেখ জানতে চান, ভাডনগর স্টেশনের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বাবা দামোদরদাস মোদীর চায়ের দোকান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হোক। শুধু তাই নয়, কোন সালে নরেন্দ্র মোদীর বাবার দোকানটির লাইসেন্স মঞ্জুর হয়েছিল, জানতে চাওয়া হয়েছিল তাও। কিন্তু দিনের পর দিন কাটলেও সেই আবেদনের কোনও জবাব আসেনি। এরপরই পবন পারেখ সরাসরি আবেদন করেন সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশনে। সেখানেও কোনও সুদত্তর পাননি তিনি। সম্প্রতি ফের আবেদন করেন তিনি। এবার সেই সূত্রেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হল, এই ঘটনা অনেকদিন আগের। অহমদাবাদ ডিভিশনের কাছে এই দোকানের বিষয়ে কোনও রেকর্ড নেই।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা যাক, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এবং ট্রেনে প্রধানমন্ত্রীর চা বিক্রি করার বিষয়টি যাচাই করতে ২০১৫ সালে তথ্য জানার আইনে আবেদন করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালাও। স্টেশন চত্বর ও ট্রেনে চা বিক্রির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হয়েছিল কিনা, সেই সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়েও কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, ছোটবেলায় কোনও স্টেশনে বা ট্রেনে মোদী চা বিক্রি করেছেন এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ মোটর ভেহিকলস নথির মেয়াদ পিছোল ৩১ ডিসেন্বর পর্যন্ত