কাশ্মীরের মর্যাদা হরণ সমর্থন করে ‘মর্যাদা হারা’ কেজরির দিল্লি

মোদীরা  এসেছেন হিন্দুদের ঠকাতে। রামের নামে তাদের বোকা বানাতে। দলিতের বিদ্বেষকে মুসলিমমুখী করতে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

সৈয়দ আলি মাসুদ

‘ঘুঁটে পুড়ে , গোবর হাসে। তোর একদিন আছে শেষে।’ বাংলার এই প্রবাদটি চিরন্তন। কাশ্মীরের আত্মমর্যাদার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সব রাজ্য কেন্দ্রের তাৎক্ষণিক স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল। তাতে যে কাশ্মীরের কোনও উপকার হবে না তা জেনেও। ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তবে ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।’ কেজরিওয়ালের হয়ত একথা এখন মনে হচ্ছে। উনিও সেদিন কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কাশ্মীরের মর্যাদা হননে সমতলের রাজ্যগুলি যখন দুর্যোধন-দুঃশাসনের মত হেসে লুটিপুটি, কেজরির দিল্লিও তখন মজা নিয়েছিল। এখন অবস্থা -‘দেখ কেমন লাগে!’ গোছের!

শাহ-মোদী সরকারের বিরোধিতা করলেই, তার দফা রফা। কেজরি পাঙ্গা নিয়েছিলেন। আবার সমতলের হিন্দুরা পাচ্ছে চোটে যায় তাই কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রকে সমর্থন করেছিলেন। এরা বলবে উপায় ছিল না। মমতাও কেন্দ্রের পাশেই ছিলেন। যে অন্যায় কাশ্মীর দিয়ে শুরু হল, তা থামবে না। যে স্বেচ্ছাচারিতাকে গোটা দেশ সমর্থন করেছিল তার খেসারত দিতেই হবে। শাসক দলের বিরোধী যেকোনো রাজ্যকে হঠাৎ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানিয়ে দেওয়া হবে। যারা ভেবেছিল আমাদের কিছু হবে না। তারা সেদিন বুঝবেন নয়া এই জাতীয়তাবাদের সর্বগ্রাসী রূপ।

আরও পড়ুন : ভুয়ো ডাক্তারে আতঙ্ক, ভুয়ো নেতাতে নয় কেন ?

একটি কবিতায় প্রয়াত কবি রাহাত ইনদোরি লিখেছিলেন, ‘লাগেগি আগ, তো আয়েঙ্গে ঘর কাইয়ি জাদ মে , ইঁহা পে শির্ফ হামারা মাকান থোড়ি হ্যায়।’এখন গোটা দেশের যা অবস্থা সবার ঘরেই আগুন লাগবে। শাসক দলের বিরোধিতা করলে কেড়ে নেওয়া হতে পারে রাজ্যের মর্যাদা। মুশকিল হল এদেশের মানুষ যে কেবল নৈতিক দিক দিয়ে ‘পোকা খেকো’ তাই নয়। তারা অত্যন্ত স্বার্থপরও। সে কারণে কেন্দ্রের শাসক দলের সুবিধা হয় কোনও একটি রাজ্যকে নিশানা করতে। অদ্ভুতভাবে এই রাজ্যকে যখন নিশানা করা হয় তখন বাকিরা প্রতিবাদ তো দূর, বরং শাসক দলের পাশে থাকে।  যেটুকু প্রতিবাদ করে তা একান্তই রাজনৈতিক। আইওয়াশ।

এদেশের কিছু শিল্পপতি এবং গুজরাটি এনআরআই-রা চাইছেন তাদের সব আবদার মেনে নিক দু’জনের সরকার। তা করতে হলে সব শক্তি কুক্ষিগত করতে হবে কেন্দ্রের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে। বিদ্বেষ মিশ্রিত হিন্দুত্বকে সামনে রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। যে ভাষায় রাজনৈতিকভাবে হিন্দুত্বকে প্রসারিত করা যায়, সেই ভাষা অর্থাৎ হিন্দিকে চাপিয়ে দিতে হবে সবার ওপর। সেটাই হচ্ছে। তাহলেই একদিকে যেমন আরএসএসের স্বপ্ন বাস্তব হবে। তেমনই শিল্পতারাও সন্তুষ্ট হবেন। পার্টি ফান্ডে টাকার অভাব হবে না। ফেডারেল সিস্টেম যত মজবুত হবে, তত অসুবিধা, আরএসএসের এবং অসাধু শিল্পপতিদের। তাই এই সরকার থাকলে আগামী দিনে আরও যে কত রাজ্য কেন্দ্রশাসিত হবে, কেউ বলতে পারে না।

হয় নীতিশ কুমার হয়ে বাঁচো, তা নাহলে লেলিয়ে দেওয়া হবে এলজিকে(উপরাজ্যপাল)। তোমার আচ্ছা খাসা রাজ্যটিতে তুমি পুতুল হয়ে যাবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের আমদানি সে কারণেই। বৈচিত্রে ভরপুর এই দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুগেও কেন্দ্রীয় শাসন গোটাগুটি চাপিয়ে দেওয়া যায়নি। এরাও সফল হবে না। কিন্তু জলঘোলা করবে যথেষ্ট। সাবধান না হলে বিপদ রোখা যাবে না। সংঘ এবং অসাধু শিল্পপতিদের নকশায় কেন্দ্রীয় কুর্সিতে কেবল শাহ-মোদী ভাবধারার নেতাদেরই বসানো হবে।

মোদীরা  এসেছেন হিন্দুদের ঠকাতে। রামের নামে তাদের বোকা বানাতে। দলিতের বিদ্বেষকে মুসলিমমুখী করতে। সেটা খানিকটা সফল হয়েছে। তবে মোদীদের সবথেকে বড় সাফল্য সংসদ জয়। একের পর এক জনবিরোধী নীতি তারা পাশ করিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি  তাতে সই করতে কালক্ষেপ করছেন না। এইভাবে কেন্দ্র অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সবটাই কেন্দ্রের হাতে চলে এলে আরএসএস বিদ্বেষের মশাল দৌড়ে নামিয়ে দেবেন বহু হিন্দুকে। আর আদানি মার্কা নেপরা সব দই মেরে দেবে।

আরও পড়ুন : এপ্রিল মাসে ১৫ দিন বন্ধ ব্যাঙ্ক , দেখে নিন পুরো ছুটির লিস্ট

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest