Do you know what jinns eat? How to eat? Do they know about the unseen?

জানেন কি জিনেরা কী খায় ? কেমন করেই বা খায় ? তারা কি অদৃশ্য বিষয়ে জানে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কৌতূহলের সীমা নেই । সেই কৌতূহলকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগান অনেকেই। তাদের নিয়ে নানা অবাস্তব ঘটনা প্রচার করা হয় । আবার কেউ নিজেদের বেশি যুক্তিবাদী প্রমাণ করতে আসল সত্যও অস্বীকার করে বসে। তবে জিনদের সম্পর্কে এমন ১০টি তথ্য পাওয়া যাবে, যা পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত।

জিন-পরি আছে

জিন-পরি বলতে কিছু নেই—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা থেকে জিন সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ২৭)

এ ছাড়া ‘সুরা জিন’ নামে কুরআনে একটি স্বতন্ত্র সুরার নামকরণ হয়েছে। ছোট-বড় প্রায় ৫৭টি আয়াতে এ সম্পর্কিত বহু বিস্ময়কর তথ্য রয়েছে, যা নিশ্চিতরূপে জিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে।

জিনের আকৃতি

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জিনের আকৃতিবিষয়ক যেসব বর্ণনা এসেছে, তা মৌলিকভাবে তিন প্রকার। দৃশ্যমান : অর্থাৎ জিনের প্রকৃত আকৃতি মানব চোখে অবলোকনযোগ্য। (তাবরানি : ৫৭৩) অদৃশ্যমান : অর্থাৎ জিনের আকৃতিবিহীন শুধু শারীরিক উপস্থিতি অনুভূত হওয়া। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২৩) বিকৃত আকৃতি : মানুষ, পশু-পাখি কিংবা বৃক্ষলতার আকৃতি ধারণ করা। (তাবরানি : ৪০১২)

জিনদের খাদ্য

মানুষসহ অন্য প্রাণীরা যেমন খাওয়াদাওয়া করে, তেমনি খাওয়াদাওয়াসহ অন্য সব প্রাকৃতিক চাহিদা রয়েছে জিনদের । আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশুর হাড়ই হল জিনের খাবার। একবার জিনের একটি দল নবীজিকে (সা.)-কে তাদের এলাকায় নিয়ে গেল। সেখানে নবীজি তাদের কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন। তারা জিজ্ঞেস করল, আমাদের হালাল খাবার কী? নবীজি (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ওই পশুর হাড়, যা আল্লাহর নামে জবাই করা হয় (সেগুলোই জিনদের খাবার)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩২৫৮)

জিনদের বিয়ে এবং সন্তান

জিন জাতির মধ্যেও রয়েছে নর-নারীর জোড়া। মানুষের মতো তাদেরও রয়েছে বিয়ে হয়। বাচ্চা হয়। পবিত্র কুরআনে জান্নাতি রমণীদের কুমারীত্বের বর্ণনায় এসেছে যে তাদের কোনও মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি। (সুরা : আর রহমান, আয়াত : ৫৬)
অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে শয়তান ও তার বংশধরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছ?’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৫০)

জিনদের ধর্ম

জিন আল্লাহর সৃষ্টি । মহান আল্লাহ তাদেরও প্রভু । পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে ‘হে মানুষ ও জিন, তোমরা তোমাদের রবের কোনও অবদানকে অস্বীকার করতে পারবে?’মহান আল্লাহ বলেছেন , ‘ওহে মানুষ ও জিন, আমি কি যুগে যুগে তোমাদের কাছে নবী প্রেরণ করিনি…?’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩০) যেহেতু মহানবী (সা.) কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বজগতের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, তাই বর্তমান জিনদের জন্য শরিয়তে মোহাম্মদী তাদের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত

জিনদের ধর্মীয় বিধি-বিধান

মানুষের মতো জিনদের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের ইহকালীন কৃতকর্মের জন্য হাশরের ময়দানে নিজ নিজ কর্মের হিসাব দিতে হবে। সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাত এবং মন্দ কর্মের জন্য অপরাধীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩৪)

মানবদেহে জিনের অনুপ্রবেশ!

আশ্চর্য হলেও সত্য যে জিনরা মানবদেহের শিরা-উপশিরায় বিচরণ করতে পারে। এমনকি মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলে তাকে বিকারগ্রস্তও করে ফেলতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে, যেমন শয়তানের আসর (কুপ্রভাব) কাউকে বিকারগ্রস্ত করে ফেলে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘শয়তান তোমাদের দেহে অনুরূপ বিচরণ করে, যেমন রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪৮২)

জিনরা কি অদৃশ্য বিষয়ে জানে?

আসমান ও জমিনের কোনো অদৃশ্যের সংবাদ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে অনেক দৃশ্যমান বিষয় জিনরা অদৃশ্য থেকে দেখে পরে তা বর্ণনা করে, যা অনেকে অদৃশ্যের খবর বলে মনে করে থাকে।

মহান আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন , ‘যারা আমার একনিষ্ঠ বান্দা, তাদের প্রতি তোমার কোনও প্রভাব কার্যকর হবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৩)

তাই দেখা যায়, ধর্মীয় ব্যাপারে উদাসীন লোকেরাই জিন ও শয়তানের কুপ্রভাব ও কুমন্ত্রণার শিকার হয়ে থাকে। হাদিসে পাকে বর্ণিত হয়েছে, টয়লেটে প্রবেশের দোয়া পাঠ না করলে দুষ্ট জিনরা তার গোপনাঙ্গ নিয়ে মস্করা করে । অনুরূপ খাদ্য গ্রহণের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ না পড়লে খারাপ জিন তার খাদ্যে অংশগ্রহণ করে।

সৌজন্য কালের কণ্ঠ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest