Kojagori Puja 2021: Things and Mantra required for Laxmi Puja at home

Laxmi Puja 2021: পুরোহিত ছাড়াই বাড়িতে কী ভাবে লক্ষ্মী পুজো করবেন? জেনে নিন নিয়ম ও কিছু মন্ত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

দুর্গাপুজোর হইচই, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা শেষ হতে না হতেই লক্ষ্মীপুজোর দিন এসে যায়। তাই লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতির সময় তেমন পাওয়া যায় না। তবে যত ঘরোয়া ভাবেই হোক আয়োজন, কিছু জিনিস ছাড়া লক্ষ্মীপুজো হয় না। সে দিকে যে নজর দিতেই হবে। বিশেষ করে যদি নিজে হাতেই পুজো সারার ইচ্ছা থাকে, তবে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

আর্দ্রা, গজশুণ্ডাগ্রবতী, পুষ্টিরূপা, পিঙ্গলবর্ণা, পদ্মমালিনী, চন্দ্রাভা, হিরণ্ময়ী, ষষ্টিহস্তা, সুবর্ণা, হেমমালিনী, সূর্যাভা ইত্যাদি নানা নামে লক্ষ্মীকে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। মাটির মূর্তি, সরা ইত্যাদি নানা রূপে লক্ষ্মী পূজিত হন বাংলার ঘরে ঘরে। কিছু জিনিস ছাড়া লক্ষ্মীপুজো তো হবে না। নিজের মতো করে ফর্দ তৈরি করে নিন। পুরোহিতের সাহায্য না নিয়েও বাড়িতে নিজের মতো করে পুজো সারতে পারবেন।

১. প্রথমে চারিদিকে এবং যে বা যাঁরা পুজো করবেন তাঁদের মাথায় গঙ্গা জল ছিটিয়ে নিন।

২. তার পর নারায়ণকে স্মরণ করে পূজা শুরু করুন।

৩. পুজোর স্থানে একটি তামার পাত্রে জল রাখুন। সূর্যকে এই জল অর্পণ করতে হবে। সূর্যকে স্মরণ করে তামার পাত্রে জল ঢালতে ঢালতেই সূর্যকে স্মরণ করুন।

৪. মাটির একটি গোল ডেলাকে সমান করে তার ওপর ঘট বসান। ঘটের সামনে ধান ছড়িয়ে দিতে হবে।

৫. ঘটে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন।

৬. এবার ঘটে গঙ্গা জল ভরে তার ওপর আম্রপল্লব রাখুন। আম পাতার ওপর তেল ও সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে দেবেন। পাতার ওপর হরিতকী, ফুল, দূর্বা রাখুন।

৭. ঘট স্থাপনের পর ধ্যান মন্ত্রে লক্ষ্মীকে প্রণাম করুন। মন্ত্রটি হল-

ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃণিভির্যাম্য সৌম্যয়োঃ।

পদ্মাসনাস্থাং ধায়েচ্চ শ্রীয়ং ত্রৈলোক্য মাতরং।।

গৌরবর্ণাং স্বরূপাঞ্চ সর্বালঙ্কারভূষি তাম্।

রৌক্নোপদ্মব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।

এই মন্ত্র কঠিন মনে হলে, ভুল উচ্চারণ না-করাই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে লক্ষ্মীকে স্মরণ করে প্রণাম করুন।

৮. এবার লক্ষ্মীকে আহ্বান করুন। হাত জোর করে লক্ষ্মীকে স্মরণ করে বলুন, ‘এসো মা আমার গৃহে প্রবেশ করো। আমার গৃহে অধিষ্ঠান করো। আমার এই সামান্য আয়োজন, নৈবেদ্য গ্রহণ করো মা।’

৯. এর পর লক্ষ্মীর পা ধুয়ে দিতে হবে। লক্ষ্মীর পায়ে ও আলপনা দিয়ে আঁকা পায়ে জলের ছিটে দিন।

১০. এবার ঘটে আতপ চাল, দূর্বা, ফুল ও চন্দন দিন। তার পর এক এক করে লক্ষ্মীকে সব অর্পণ করুন।

১১. ফল, মিষ্টি ইত্যাদি নৈবেদ্য দিন। ধূপ ধুনো দেখান। ১২. অর্পণ করার পর এবার পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে। হাতে ফুল নিয়ে পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র বলে তিন বার অঞ্জলি দিতে হবে। মন্ত্রটি হল-

নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।

যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চবাৎ।।

১৩. তার পর লক্ষ্মীর বাহনকে ফুল দিন এবং নারায়নকে স্মরণ করে ঘটে ফুল দিতে হবে। এবার ইন্দ্র ও কুবেরকে স্মরণ করে ঘটে ফুল দিন। তারপর লক্ষ্মীকে প্রণাম করুন।

১৪. অবশেষে লক্ষ্মী পাঁচালী পড়ে পুজো সম্পন্ন করুন।

  • যে বিষয়গুলিলক্ষ্মী পুজোয় কাঁসর, ঘণ্টা বাঁজাবেন না। এতে লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন। শুধু শাঁখ বাঁজাবেন।
  • লক্ষ্মীর ঘটে তুলসী পাতা দেবেন না।
  • লোহার বাসন ব্যবহার করবেন না।

কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো সাধারণত সন্ধে বেলা করা হয়। তবে অনেকে সকালেও করে থাকেন। সকালে করলে ৯টার মধ্যে করে নেওয়াই শ্রলক্ষ্মী পুজোর আরও কিছু মন্ত্র—

লক্ষ্মীর স্তোত্র

লক্ষ্মীস্তং সর্বদেবানাং যথাসম্ভব নিত্যশঃ।

স্থিরাভাব তথা দেবী মম জন্মনি জন্মনি।।

বন্দে বিষ্ণু প্রিয়াং দেবী দারিদ্র্য দুঃখনাশিনী।

ক্ষীরোদ সম্ভবাং দেবীং বিষ্ণুবক্ষ বিলাসিনীঃ।।

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর স্তোত্রম্

ত্রৈলোক্য পূজিতে দেবী কমলে বিষ্ণুবল্লভে।

যথাস্তং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভবময়ি স্থিরা।।

ঈশ্বরী কমলা লক্ষ্মীশ্চলা ভূতি হরিপ্রিয়া।

পদ্মা পদ্মালয়া সম্পদ সৃষ্টি শ্রীপদ্মধারিণী।।

দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেত।

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র

ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।

সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোস্তুতে।

লক্ষ্মীপুজোয় অতি ঘরোয়া কিছু জিনিস প্রয়োজন। শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নিতে হলেও খেয়াল রাখুন সিঁদুর, অধিবাস ডালা, তিল, হরিতকী, ঘট, একসরা, আতপ চাল রয়েছে কি না। এ ছা়ড়াও প্রয়োজন ১টি ঘটাচ্ছাদন গামছা, ১টি কুণ্ডহাঁড়ি, ১টি তেকাঠি, ১টি দর্পণ, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগব্য, পঞ্চরত্ন, ১টি সশীষ ডাব, ৪টি তীর, পুষ্প, দুর্বা।

এ ছাড়া লাগে, ৩টি আসনাঙ্গুরীয়ক, মধুপর্কের ৩টি বাটি, দই, মধু, গব্যঘৃত, চিনি, ৩টি নৈবেদ্য, ১টি কুচা নৈবেদ্য, লক্ষ্মীর শাড়ি, নারায়ণের ধুতি, পেচক পুজোর ধুতি, লোহা, শঙ্খ, সিঁদুরচুবড়ি, বালি, কাঠ, খোড়কে, ঘি এক পোয়া, হোমের বেলপাতা ২৮টি, ভোগের রান্নার জিনিস, কর্পুর, চিঁড়ে, নারকেল, পান, চানের মশলা, ১টি থালা, ২টি ঘটি, রচনা, ১টি ফুলের মালা, ১টি চন্দ্রমালা এবং পূর্ণপাত্র।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest