বয়েস তিরিশের কোঠায়? জেনে নিন ত্বকের যত্নের ডু’জ় অ্যান্ড ডোন্টস

কুড়ির মতো অবহেলাও চলবে না, আবার চল্লিশের মতো কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলারও কারণ নেই। তিরিশে সুন্দর থাকতে যত্ন নিন তিরিশের মতো করেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের সমস্যা বাড়াটা খুবই স্বাভাবিক। এই নিয়ে চিন্তা করা বৃথা। তবে বয়স বাড়ছে বলে যদি আরও বেশি অবহেলা করতে শুরু করেন, তবে সেটা কিন্তু পুরোপুরি আপনার দায়িত্ব। তিরিশে ত্বক ভাল রাখতে ঠিক কী কী করবেন এবং কী কী করবেন না, সেই ব্যাপারেই আজ কথা বলব। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

তিরিশের স্কিনকেয়ার রেজিম

প্রত্যেকের ত্বকের ধরন আলাদা। আর তাই ত্বকের যত্ন নেওয়ার কায়দাও আলাদা হওয়া উচিত। তবে প্রত্যেক ধরনের ত্বকের জন্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট স্টেপ মেনে চলা উচিত। প্রডাক্ট আলাদা হলেও এই ধাপগুলো মোটামুটি সবার ক্ষেত্রেই এক।

সকালে

  • প্রতিদিন রাতে যখন আমরা ঘুমোতে যাই, তখন আমাদের ত্বক এক ধরনের রিনিউয়াল প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যায়। এই সময় ত্বকে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে আসে, যা খুব স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উপরে জমা হয়। তাই ঘুম থেকে উঠে সামান্য মিসেলার ওয়াটারে কটন প্যাড ডুবিয়ে একবার মুখে বুলিয়ে নিন। তারপর প্রয়োজন হলে মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
  • তিরিশে ত্বক টোনড রাখা খুব জরুরি। মাঝেমাঝে নয়, প্রতিদিন ত্বকে টোনার ব্যবহার করুন। টোনার শুধুমাত্র ত্বক টোন করতেই নয়, বরং পোরস বন্ধ করতে, টক্সিন বার করতে এবং ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখতেও সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত টোনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে টোনারে অ্যালকোহল উপাদানটি না থাকাই শ্রেয়। কেনার আগে উপাদানের তালিকায় অবশ্যই চোখ বুলিয়ে নেবেন।
  • ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়শ্চারাইজ়ার নিঃসন্দেহে উপকারী, তবে তা ত্বকের গভীরে আর কোনও পুষ্টি দেয় না। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে পু্ষ্টির প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। তাই শুধুমাত্র ময়শ্চারাইজ়ারের ব্যবহার যথেষ্ট নয়। ময়শ্চারাইজ়ার ব্যবহার করার আগে প্রতিদিন ব্যবহার করুন সিরাম। ভিটামিন সি, রেটিনল, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ধরনের হাইড্রক্সি অ্যাসিড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করুন। এগুলো আপনার ত্বক নরম রাখার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বক দৃঢ় রাখতে সাহায্য করবে।
  • সিরামের পর ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। পাতলা থেকে ভারী—সবসময় এই ঘনত্বে প্রডাক্ট লাগান। এতে সিরাম ত্বকের গভীরে কাজ করতে পারবে। আবার ময়শ্চারাইজ়ার সেই সিরামের উপর থেকে বাইরে থেকে আলদাভাবে ত্বককে সুরক্ষা দেবে।
  • সবশেষে ব্যবহার করুন এসপিএফ। দিনের বেলা বাইরে বেরোন বা ঘরে থাকুন, এসপিএফ কোনওভাবেই বাদ দেবেন না। এতে সানস্পট, মেচেতার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

রাতে

  • বাড়ি ফিরে বা সন্ধেবেলা আরও একবার মুখ পরিষ্কার করুন। ফেসওয়াশের সঙ্গে এই সময় ব্যবহার করতে পারেন কোনও জেন্টল এক্সফোলিয়েটর। সপ্তাহে একবার বা দু’বার এক্সফোলিয়েশন করলেই যথেষ্ট। মাঝেমাঝে পিল-অফ মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা খুব ঘন ঘন ব্যবহার না করাই ভাল।
  • রাতে শুতে যাওয়ার আগে পরিষ্কার ত্বকে নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। যে ক্রিম সবসময় ব্যবহার করছেন, কিংবা ডে ক্রিম ব্যবহার করলে চলবে না। নাইট ক্রিম বিশেষভাবে তৈরি করা হয়, যা সারারাত ত্বকে কাজ করে। আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের নাইট ক্রিম পাওয়া যায়। আঙুলের সাহায্যে আলতো করে সার্কুলার মোশনে মাসাজ করে বা ত্বকে আলতো চাপ দিয়ে ক্রিম ব্লেন্ড করে নিন।
  • এরপর পালা আন্ডারআই ক্রিমের। চোখের নিচের ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে ভাল মানের আন্ডারআই ক্রিম মাসাজ করে শুতে যান।
  • শুধুমাত্র মুখের ত্বকই নয়, সেই সঙ্গে সারা শরীরেও লোশন বা ময়শ্চারাইজ়ার লাগিয়ে শুতে যান। ঘাড়, গলা, হাত, পা ইত্যাদি অংশগুলোর প্রতি যত্ন নিন।
  • রাতে শুতে যাওয়ার আগে লিপবামও কিন্তু মাস্ট। শুকনো, ফাটা ঠোঁট নরম এবং মসৃণ করে তুলতে চাইলে সপ্তাহে একবার লিপস্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন।

ডু’জ় অ্যান্ড ডোন্টস

  • মুখ পরিষ্কার করতে বা মেক-আপ তুলতে স্কিনকেয়ার ওয়াইপ বা অন্য কোনও ধরনের ফেশিয়াল ওয়াইপস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। প্রথমত এই ধরনের ওয়াইপসগুলো সাধারণত অ্যালকোহলযুক্ত হয়, যা ত্বকের জন্য ভাল নয়। তাছাড়া ওয়াইপস ব্যবহার করলে ত্বকে যে পরিমাণ টান বা চাপ পড়ে, তাও ত্বকের জন্য খুব একটা ভাল নয়। বিশেষত তিরিশ বা তারপর। ত্বক টানটান রাখতে চাইলে ওয়াইপস না ব্যবহার করাই ভাল। বরং মিসেলার ওয়াটার বা মেক-আপ রিমুভারে কটন প্যাড ডুবিয়ে তা ত্বকের উপর কিছুক্ষণ রেখে আলতো করে বুলিয়ে নিন। এরপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে চেপে চেপে মুছে নিন।
  • এতদিন ত্বকে যা যা প্রডাক্ট ব্যবহার করে এসেছেন, তা যে এরপরও ব্যবহার করে যেতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। কুড়িতে ত্বকের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে যা ব্যবহার করেছেন, তা তিরিশের ত্বকের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। সুতরাং ত্বকের ধরন বুঝে স্কিনকেয়ার রেজিমে নতুন প্রডাক্ট ব্যবহার করুন।
  • ত্বকে কোনও সমস্যা হলে নিজে নিজে তার সমাধান করতে যাবেন না। মনে রাখবেন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের সেল রিনিউয়াল প্রসেসের গতিও কমে আসে। ফলে কোনও সমস্যা হলে তা সারতে ত্বকের সময়ও বেশি লাগে। সমস্যা সমাধানের জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
  • কাজ, স্ট্রেস ইত্যাদিরও আপনার ত্বকের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। হরমোনাল ইমব্যালেন্স, অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল, ডায়েট ইত্যাদি সবকিছুই ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। যতটা সম্ভব রিল্যাক্সড থাকতে চেষ্টা করুন। টাটকা সবজি, ফল ইত্যাদি নিয়মিত খান। অ্যাক্টিভ থাকার চেষ্টা করুন। নিয়মিত আধঘণ্টা করে শরীরচর্চা করুন। শরীরের যত্ন নিন। শরীর ভাল থাকলে দেখবেন, ত্বকও সুন্দর থাকবে।