IPL 2021 Auction: শাহরুখ, মরিস, শাকিব-সহ নাইটদের নজরে কারা?

হাতে ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা নিয়ে খুব বেশি ক্রিকেটার কিনতে পারবেন না ব্রেন্ডন ম্যাকালামরা।

আইপিএল ২০২০-তে ৫ নম্বরে শেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। মাঝ পথে দীনেশ কার্তিকের বদলে অইন মর্গ্যানকে অধিনায়ক করা হয়। ধারাবাহিক ভাবে ছন্দ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় কলকাতা। এ বারের নিলামে এমন কিছু ক্রিকেটার কিনতে চাইবে তারা, যাতে ফের আইপিএল ট্রফি জিততে পারে কলকাতা। কোন কোন ক্রিকেটারের দিকে নজর দিতে পারে কলকাতা?

কলকাতা দলে রয়েছেন ১৭ জন ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছেন ৬ জন। বৃহস্পতিবার নিলামে তারা কিনতে পারবে ৮ জন ক্রিকেটার। ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার নিতে পারবে কলকাতা। হাতে ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা নিয়ে খুব বেশি ক্রিকেটার হয়তো কিনতে পারবেন না ব্রেন্ডন ম্যাকালামরা।

সেই কারণে নিলামে নাইটদের পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে রিজার্ভ বেঞ্চ। সেই পরিস্থিতিতে একনজরে দেখে নিন কেকেআরের কোথায় কোথায় ফাঁক আছে এবং কোন কোন খেলোয়াড়ের জন্য ঝাঁপাতে পারে কেকেআর।

ডেভিড মালান: ইংল্যান্ডের এই ওপেনারকে দলে নেওয়ার জন্য অনেক দলই মুখিয়ে থাকবে। কলকাতা দলে শুভমন গিলের সঙ্গে মালানের মতো একজন ওপেনার পেলে অনেক বেশি ভাল শুরু করার সুযোগ থাকবে। আইসিসি-র তালিকায় সেরা টি২০ ব্যাটসম্যান মালান। তাঁকে নেওয়ার জন্য যে লড়াই হবে তা বলাই বাহুল্য।

ক্রিস মরিস: আন্দ্রে রাসেলের উপযুক্ত বিকল্প হতে পারেন। ডেথে যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। গতবার তিনি খেলার পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বোলিং ঢের ভালো হয়েছিল। তবে তাঁর জন্য ঝাঁপানোর আগে চোট-আঘাত এবং কতদিন পাওয়া যাবে, সেই বিষয়টি দেখতে হবে।

অভি ব্যারট: কেকেআরকে এমনিতেই এবার ভারতীয় উইকেটকিপার নিতে হবে। সেই হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারেন সৌরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান। সেই সঙ্গে ওপেনও করেছেন। এবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির শুরু থেকেই ভালো ফর্মে ছিলেন। শেষপর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ২৮৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন। স্ট্রাইক রেটও দারুণ – ১৮৪.৯৬। হাঁকিয়েছেন ৩২ টি বাউন্ডারি এবং ১২ টি ছক্কা। তার মধ্যে গোয়ার বিরুদ্ধে ১২২ রান এবং বিদর্ভের বিরুদ্ধে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেছেন।

ঝাই রিচার্ডসন: এবার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) সর্বোচ্চ ২৯ টি উইকেট পেয়েছেন। নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন। পাওয়ার প্লে এবং ডেথেও তাঁর উপর ভরসা করা যায়। তবে তাঁর ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হল, টাকার অভাব। রিচার্ডসনের জন্য একাধিক দল ঝাঁপাতে পারে। বেশি দর হলে স্বভাবতই অস্ট্রেলিয়ার বোলারের আশা ছাড়তে হবে।

শাকিব-আল-হাসান: আন্দ্রে রাসেলের মতো ঠিক নন। তবে সুনীল নারিনের পরিবর্তে তাঁকে অনায়াসে প্রথম একাদশে রাখা যায়। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পরই স্বাভাবিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে মূল সমস্যা হল যে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য আগামী ১৯ মে’র পর সম্ভবত তিনি থাকবেন না।

আরও পড়ুন:

মুস্তাফিজুর রহমান: আগেরবারই তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কেকেআর। কিন্তু বাংলাদেশের বোর্ডের ছাড়পত্র না মেলায় তা সম্ভব হয়নি। এবার তাঁকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপাতে পারেন নাইটরা। তবে শাকিবের মতো তাঁকেও কতদিন পাওয়া যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

জেসন বেহরেনডর্ফ: দলের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে তাঁকে টার্গেট করতে পারে কেকেআর। তবে তাঁকে নেওয়ার জন্য একাধিক দল ঝাঁপানোর চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে কেকেআরে হাতে কম টাকা থাকার বিষয়টি সমস্যার হয়ে উঠতে পারে।

শাহরুখ খান: শাহরুখ খানের দলেই আসতে পারেন শাহরুখ খান। তেমন বড় রান না করলেও এবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দীনেশ কার্তিকের অধিনায়কত্বে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচ ফিনিশের দক্ষতাও আছে।

লুকম্যান মেরিওয়ালা: আট ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে এবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিকারী হয়েছেন। ইকোনমি রেট ৬.৫৩। ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে আট রানে নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। গতবারের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেও সাত ম্যাচে ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন বাঁ-হাতি বোলার। ইকোনমি রেট ছিল ৬.৩৩। তাঁর হাতে বৈচিত্র্যও ভালো আছে।

শেলডন জ্যাকসন: কেকেআরের এবার একজন ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লাগবেই। আর নাইটদের ভাগ্য ভালো যে এবার একাধিক ভারতীয় উইকেটরক্ষক সৈয়দ মুস্তাক আলিতে ভালো ফর্মে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শেলডন জ্যাকসন। পাঁচ ম্যাচে করেছেন ২৪২ রান। স্ট্রাইক রেট ১৫৫.১২। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। আর তিন নম্বরে নামতেন। পাশাপাশি কেকেআরেও ছিলেন। সেদিক থেকে তাঁর জন্য নিলামে ঝাঁপাতেই পারে কেকেআর।

আর কোন কোন খেলোয়াড়ের জন্য ঝাঁপাতে পারে কেকেআর? 

১) উমেশ যাদব।

২) শিবম দুবে।

৩) মহম্মদন আজহারউদ্দিন।

৪) কেদার দেওধর

আরও পড়ুন: