বিমানবন্দর থেকে সোজা বাবার কবরে গেলেন সিরাজ, চাইলেন দোয়া

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

সিডনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় মহম্মদ সিরাজের চোখে জল দেখে, বোধহয় কেউই নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। ব্রিসবেনে একটি ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করার পর গাব্বার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে বোধহয় তাঁর বাবাকেই খুঁজতে চেয়েছিলেন সিরাজ। বোধহয় বলতে চেয়েছিলেন, “এই দ্যাখো বাবা, আমি পেরেছি। তোমার স্বপ্ন সফল করেছি।”

মহম্মদ সিরাজ়ের কাছে এই টেস্ট সিরিজ়টা যথেষ্ট কঠিন ছিল। ছিল আবেগপ্রবনও। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ২৭ বছর বয়সি এই ফাস্ট বোলার আরব আমিরশাহী থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার দিন কয়েকের মধ্যেই পিতৃহারা হয়েছেন। তবে সেই অবস্থাতেও সিরাজ বাড়ি ফিরতে চাননি। বাবার স্বপ্ন সফল করতে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেছেন।

সিরাজের বাবা মহম্মদ ঘাউস সবসময় এই স্বপ্নই দেখতেন যে একদিন না একদিন তাঁর ছেলে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলবে। পেশায় মহম্মদ ঘাউস ছিলেন একজন অটো রিক্সাচালক। আর্থিক অভাব সিরাজের স্বপ্নের পথে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ তিনিও যে ছেলের সঙ্গেই স্বপ্ন দেখতেন।

আরও পড়ুন: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে ভর্তি কিংবদন্তি চন্দ্রশেখর

টেস্ট ক্রিকেটে সিরাজের হয়ত অভিষেক হল, কিন্তু তাঁর প্রিয় বাবা ততদিনে পৃথিবী ছেড়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন। সেই ব্যক্তিগত ক্ষতির পর সিরাজ তাঁর মা’কে ফোন করেন। তিনি সিরাজকে সাহস জোগান, অস্ট্রেলিয়ায় থাকার আত্মবিশ্বাস দেন। সিরাজের বাবা বেঁচে থাকলে যা যা করতেন, সেই সব দায়িত্বই তাঁর মা পালন করেন। অবশেষে সিরাজ ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলে এবং ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স করে।

বৃহস্পতিবার সকালেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়া থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে দেশে ফিরেছেন। দিল্লি হয়ে শামসাবাদের বিমানবন্দরে সিরাজ নামার পর তাঁকে নিতে আসেন পরিবারের কিছু সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধু। তাঁদের সঙ্গেই সরাসরি খিরতাবাদের কবরখানায় চলে যান, যেখানে চিরঘুমে শুয়ে আছেন তাঁর বাবা মহম্মদ গউস।

২০ নভেম্বর মারা গিয়েছেন ৫৩ বছরের গউস। ৬৩ দিন পর দেশে ফিরলেন সিরাজ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দারুণ সাফল্যের পর সিরাজ বলেছিলেন, ‘বাবা নেই হয়তো, কিন্তু সব সবয় ওঁর উপস্থিতি বুঝতে পারি।’ বাবার কবরখানায় দীর্ঘক্ষণ প্রার্থনা করেছেন সিরাজ, তাঁর আত্মার শান্তির জন্য। সিরাজের সঙ্গে যাওয়া বন্ধু মহম্মদ সফি বলেছেন, ‘সকাল ন’টা নাগাদ বিমানবন্দের পৌঁছেছিল সিরাজ। সেখান থেকে সরাসরি আমরা কবরখানায় চলে যাই। ওর বাবা যদি বেঁচে থাকতেন, সিরাজের সাফল্য দেখে খুব খুশি হতেন। সিরাজও বাড়ি ফিরে বাবাকে জড়িয়ে ধরতে পারলে খুশি হত। দুটোই সম্ভব হল না।’

বাবার কবরখানায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সিরাজ। ফুল দিয়েছেন, প্রার্থনা করেছেন। তার পর সেখান থেকে টোলি চৌকির আল-হাসনাথ কলোনিতে নিজের বাড়িতে গিয়েছেন। সিরাজের বাড়ি সামনে সকাল থেকেই প্রচুর ভিড় ছিল। স্থানীয় লোকজন তো বটেই হায়দরাবাদের নানা জায়গা থেকে এসেছিলেন অনেকেই। শহরের নতুন গর্বকে এক ঝলক দেখার জন্য। সিরাজের ভাই মহম্মদ ইসমাইল বলেছেন, ‘বাবা বরাবর সিরাজের পাশে থেকেছে। এমনকি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হলেও কোনওদিন কিছু বলেনি। বরং সব সময় উত্‍সাহ দিয়ে গিয়েছে। বাবা যে ঠিক ভেবেছিল, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন: পেশাদার ফুটবলে ‘সর্বকালের সর্বোচ্চ’ গোলদাতা হলেন রোনাল্ডো, ফ্যানেদের মনে খুশির ঢেউ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest