‘আমফান’ আগে মাথা হিট করবে, তার পর চোখ, তার পর লেজ…কাল-পরশু ঘরে থাকার পরামর্শ মমতার

কলকাতা: “কাল বেলা বারোটা থেকে পরশু সকাল ১০ টা পর্যন্ত কেউ ঘর থেকে বেরোবেন না।” মঙ্গলবার দুপুরে এই শক্তশালী ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার ঝড় থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে কেউ ঘর থেকে বের না হন সেই আবেদন করেন তিনি। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শও দেন। পাশপাশি, ঘূর্ণিঝড়ে যাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মূলত এ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাতে আমপান ছোবল মারলেও, রেহাই নেই কলকাতারও। প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অঝোরে বৃষ্টি চলবে বুধবার সারাদিনই। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস জানিয়েছেন, আমপানের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হবে কলকাতায়। সকালের দিকে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭৫ থেকে ৮৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১১০-১৩০ কিলোমিটার পর্যন্তও হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঘণ্টায় ২৭০ কিমি বেগ! সব থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের খেতাব পেল Amphan

প্রবল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে শহরের বিভিন্ন অংশে। শহরের বহু জায়গায় পুরনো বাড়ি রয়েছে। সেগুলোর ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাস্তার ধারে বড় বড় গাছ রয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে সেগুলো উপড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই ওই সময়ে বাড়ির বাইরে না থাকার জন্য শহরবাসীদের পরামর্শ দিয়েছে আবহওয়া দফতর। সেই সঙ্গে দোকান-বাজার বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বৈঠক করেন পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেখানে প্রশাসকমণ্ডলীর চার সদস্য ছাড়াও সেচ, কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভার সমস্ত দফতরের ডিজি-রা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুর কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে আগামী ক’দিন। ঝড়বৃষ্টির সময়ে রাস্তার গালিপিট যাতে আটকে না যায়, সে দিকেও নজর রাখা হবে। ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গাছ কাটার যন্ত্র নিয়ে তৈরি থাকবেন পুরকর্মীরা। শহর জুড়ে যে সব বড় হোর্ডিং আছে, দ্রুত সেগুলিকে সরাতে নির্দেশ দিয়েছেন ফিরহাদ। এখন গঙ্গার জলস্তর বেশ নীচে। তাই বৃষ্টির সময়ে গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত লকগেটগুলি খুলে রাখতে বলা হয়েছে সেচ দফতরকে। যাতে জমা জল দ্রুত বেরোতে পারে।

এদিন আমফান নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “সরকারের তরফে প্রত্যেককে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ মানুষকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালকের মধ্যে আরও বহু মানুষকে সরানো হবে।” পাশাপাশি, যাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাঁদের কাল বেলা বারোটা থেকে পরশু সকাল ১০ টা পর্যন্ত ঘরে থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আগামিকাল দুর্যোগ মোকাবিলায় রাতে নবান্নেই থাকবে টিম মমতা। নজর থাকবে গোটা রাজ্যের পরিস্থিতির উপর। পাশাপাশি, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের যাতে কোনওভাবেই সমস্যা না হয় সেই কারণে হেল্পলাইন নম্বর (২২১৪৩৫২৬) চালু করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ শিবির থেকে যাতে কোনওভাবেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই কারণে সেখানেও মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গের আরও কাছে সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’, বাংলা-ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলে জারি চরম সতর্কবার্তা

Gmail 2