রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি, লকেটের জায়গায় অগ্নিমিত্রা, বড় দায়িত্বে সৌমিত্র খাঁ, ক্ষোভ দলের অন্দরে

কলকাতা: অবশেষে ঘোষিত হল বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি। সোমবার দলের রাজ্য সদর দফতরে কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপের বাহিনীতে পদোন্নতি হল লকেটের। অদৃশ্য হয়েও থেকে গেলেন রীতেশ তিওয়ারি। 

এদিন দিলীপবাবু জানান, লকডাউন শুরুর আগে তিনি ও প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে এই কমিটি চূড়ান্ত করেন। তবে লকডাউন চলায় কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এখন লকডাউন শিথিল হওয়ায় কমিটি ঘোষণা করা হল। 

উল্লেখযোগ্য বদল এল দলের দুই শাখা সংগঠনে। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হলেন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল। লকেট চট্টোপাধ্যায় হলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হলেন। দলের যুব সংগঠনেও নতুন মুখ। এলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এই পদে আগে ছিলেন দেবজিৎ সরকার। তিনি গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। রাজ্যের নতুন কোর কমিটিতে জায়গা পাননি দেবজিৎ।

মূলত এই ২ বদল নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দলের পুরনো সদস্যরা।  বিজেপির একাংশের দাবি, দেবজিৎ আরএসএস করা ছেলে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর আসন থেকে নিজে জিততে পারেননি ঠিকই। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে যুব মোর্চা ঠিক মতো কাজ না করলে বিজেপির ১৮ আর হত না। সেই দেবজিতকে সরিয়ে আনা হল সৌমিত্র খাঁকে। যার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। তাছাড়া সুযোগ বুঝে দলবদল করতে সিদ্ধ যিনি।  যদিও দেবজিতকে সরানোর পক্ষে যারা তাদের যুক্তি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুব মোর্চার আরও আগ্রাসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। নইলে তৃণমূলের মতো দলকে রোখা মুশকিল। তাই তৃণমূলের আঁটঘাট জানা সৌমিত্রকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। 

একই প্রশ্ন উঠেছে অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়েও। কোন রাজনৈতিক প্রতিভা দেখে একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে মহিলা মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের একাংশের নেতারা। সেক্ষেত্রে নেতৃত্বের জবাব, লকেটের ক্ষেত্রেও একসময় এমন প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন লকেট। তেমন অগ্নিমিত্রাও সময়ের সঙ্গে পোড়খাওয়া নেত্রী হয়ে উঠবেন।  

আরও পড়ুন: ‘তথ্য গোপন করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা অসম্ভব’, “রুটিন” অভিযোগ রাজ্যপালের

অন্যদিকে, রাজ্য কমিটিতে এলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা সল্টলেকের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। তিনি রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিন দলের নতুন রাজ্য কমিটিতে যে পাঁচ জন সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে আছেন সায়ন্তন বসু, রথীন্দ্রনাথ বোস, সঞ্জয় সিংহ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়। এর মধ্যে জ্যোতির্ময় ও লকেট নতুন দায়িত্ব পেলেন। বাকিরা আগেও ‌এই পদে ছিলেন।

দলের ১২ জন সহ সভাপতির নামও ঘোষণা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন, বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, সুভাষ সরকার, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি মিত্র, রাজকুমার পাঠক, জয়প্রকাশ মজুমদার, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (রাজু), রিতেশ তেওয়ারি, দীপেন প্রামানিক, অর্জুন সিং, ভারতী ঘোষ ও মাফুজা খাতুন। উল্লেখযোগ্য ভাবে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন চন্দ্র বসু। তাঁর সঙ্গে অনেক দিন ধরেই দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে আগে থাকতেই জল্পনা ছিল যে, চন্দ্র বসু বিজেপির রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পরবেন।

এছাড়াও ১০ জন সম্পাদকের নাম এদিন ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন, তুষার মুখোপাধ্যায়, তুষারকান্তি ঘোষ, অরুণ হালদার, বিবেক সোনকর, সব্যসাচী দত্ত, তনুজা চক্রবর্তী, ফাল্গুনী পাঠক, সংঘামিত্রা চৌধুরী, সর্বরী মুখোপাধ্যা ও দীপাঞ্জন গুহ।

এছাড়াও কিষাণ মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মহাদেব সরকার ও সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্বে আলি হোসেন। বিজেপির এসসি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন দুলাল বর এবং এসটি মোর্চার সভাপতি খগেন মুর্মু। তবে বিজেপির রাজ্য কমিটিতে অবাঙালি মুখ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। হাতে গোনা কয়েকজন বাদ দিলে সবাই বাঙালি। অবাঙালি পার্টির তকমা ঝেড়ে বাঙালির বন্ধু হয়ে উঠতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণাঙ্গ-মৃত্যুতে জ্বলছিল আমেরিকা, প্রতিবাদের ঢেউ এবার ইউরোপেও!

Gmail 3