আমফানের তাণ্ডবে সুন্দরবন বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কলকাতা: এগারো বছর আগে এসেছিল আয়লা। তার জেরে গত পাঁচ বছর ধরে দুই ২৪ পরগনায় ১৮৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের মুখে। সেচ দফতরের মুখে মুখে আয়লা তহবিলের টাকায় তৈরি ৪০ মিটার ভিতের প্রকাণ্ড বাঁধ ‘হাতিবাঁধ’ নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। আমপানের দাপটে কোথাও হাতি বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে সেচ দফতরের খবর। তবে এ বারও বাঁচেনি সুন্দরবনের নদী বাঁধ। সেচ দফতর জানাচ্ছে, আমপানের ধাক্কায় ৭১টি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। ২৮ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। আরও অন্তত ৭৬ কিলোমিটার বাঁধে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

২০১৯-এর বুলবুল আধভাঙা করে রেখেছিল বাড়ি-ঘর সেই জীর্ণ কঙ্কালের উপর ২০২০-র ২০ মে-র আমফান আরও গতিবেগে আছড়ে পড়ল সুন্দরবন উপকূলে, মুড়িমুড়কির মতো ভাঙল বাঁধ যত্রতত্র। মইপিঠ, বালি, পুঁইজালি, সাগর দ্বীপ, কুমির মারি, মোল্লাখালি, সাতজেলিয়া, কাকদ্বীপ, গোসবা, বাসন্তী, ঝড়খালি সব জায়গার ছবিতেই প্রকৃতির ধ্বংসলীলা ফুটে উঠেছে। প্রায় নেই মাটির বাড়ির অস্তিত্ব। ঝড়ের আগে ক্যানিং থেকে কাকদ্বীপ, প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে সরানো হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে। ঝড় শেষে সেসব মানুষ ফিরে এসে দেখে যে তাদের বাড়ি ঘরদোর কিছুই নেই। তারা বলছে, করোনায় তাদের কাজ গিয়েছে। আর আমফান ঝড়ে তাদের ঘর নিয়ে চলে গেছে।

ভরসা ছিল সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভেরা নির্ভীক প্রহরীর মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থেকে বিগত দিনগুলোর মতো রক্ষা করবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পেতে সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে হবে এখনও। কারণ গোটা এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট। আমফানের ধ্বংসলীলায় সুন্দরবন এখন বিচ্ছিন্ন বদ্বীপে পরিণত।

আরও পড়ুন: রাজ্যকে ১ হাজার কোটি টাকার সাহায্যর প্রতিশ্রুতি দিলেন মোদী

Gmail 2

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest