জন্মের তিন দিনের মাথায় মৃত্যু, সন্তানের কর্নিয়া দান করে নজির গড়লেন দুর্গাপুরের দম্পতি

ওয়েব ডেস্ক: জন্মের তিনদিনের মধ্যে মারা গিয়েছে সন্তান। শিশুর কর্নিয়া দান করে নজির গড়লেন দুর্গাপুরের দম্পতি। চিকিৎসক মহল জানিয়েছে, এর আগে এত ছোট শিশুর কর্নিয়া দানের ঘটনা এ রাজ্যে ঘটেনি। দেশেও এই প্রথম। এমনটাই দাবি করেছে দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চক্ষুদান আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই দম্পতি অবদান প্রশংসনীয়।

অণ্ডাল নর্থ বাজারের ক্ষুদিরামপল্লির বাসিন্দা অরূপ কাঁচরাপাড়া রেল ওয়র্কশপে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী দীপান্বিতা শুক্রবার দুর্গাপুরের বিধাননগরে এক বেসরকারি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তার পরেই চিকিৎসকেরা জানান, অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক তৈরি হচ্ছে না সদ্যোজাতের শরীরে। বাঁচার সম্ভাবনা বেশ কম। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অ্যামোনিয়া বেড়ে যাওয়ার কারণে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল ও ‘ব্রেন ডেথ’ হয়ে রবিবার সকালে মৃত্যু হয় শিশুটির।

অরূপ জানান, তাঁর দিদি মিঠু পান ওই হাসপাতালেই কাজ করেন। সন্তানের মৃত্যুর পরে তাঁরা যখন শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ছেন, তখন দিদিই প্রথম চক্ষুদানের প্রস্তাব দেন। অরূপবাবু বলেন, ‘‘আমাদের মাথা তখন কাজ করছিল না। দিদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ছেলের চক্ষুদান করতে চাই কি না। সায় দিই।’’ মিঠুই খবর দেন ‘দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি’কে। তাদের কর্মীরা দুপুরে হাসপাতালে এসে কর্নিয়া সংগ্রহ করেন। সেটি আরআইও-তে পাঠানো হচ্ছে।

দুর্গাপুরের ওই সংগঠনের কর্তাদের দাবি, এর আগে কেরলে আট দিনের একটি শিশুর কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু তিন দিনের শিশুর কর্নিয়া সংগ্রহের ঘটনা এই প্রথম। সংগঠনের সম্পাদক কাজল রায় বলেন, ‘‘শিশুটির কর্নিয়া সংগ্রহে সম্মতি দেওয়ার জন্য ওই দম্পতিকে কুর্নিশ জানাই।’’ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কোনও সদ্যজাতর কর্নিয়া প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সব ঠিকঠাক ম্যাচ করে গেলে অবশ্যই এই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সম্ভব। তাঁরা আরও জানিয়েছেন যে, আজকাল কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধাই নয়।