সিসিটিভি ভাঙা কেন, কোথায় নিরাপত্তারক্ষীরা? মণীশ খুনের তদন্তে একাধিক অসংগতি ঘিরে প্রশ্ন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

রাজনৈতিক নেতা খুন হলে প্রতিপক্ষের দিকে আঙুল ওঠাই স্বাভাবিক। টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লর খুনের পরে সে ভাবেই সোমবার দিনভর শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগে সরব থেকেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এমনকি, সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়ে এসেছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। জেলা সফরে ব্যস্ত বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও ওই ঘটনায় তৃণমূল জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘‘এ ভাবেই ওরা আমাদের দলের লোকেদের ভয় দেখাতে চাইছে।’’

এর পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে ঘটনার যে বিশ্লেষণ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এই খুনে তৃণমূল না বিজেপি, কার ‘উদ্দেশ্য’ সিদ্ধ হল, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা সামনে আসছে। এমনকি, এটি কোনও পুরনো বিবাদের জের কি না, উঠছে সে প্রশ্নও। ধোঁয়াশার সূত্রপাত ঘটনার বিবরণ থেকে।

জানা গিয়েছে, সাধারণত মণীশ শুক্লার মতো জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে সর্বদাই অন্তত ৭ জন দেহরক্ষী থাকতেন, তার মধ্যে ২ সশস্ত্র। কারণ, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘুরে আসা মণীশের জনপ্রিয়তার কারণেই তাঁর শত্রুসংখ্যা নেহাত কম ছিল না। আগেও দু’বার খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল তাঁকে। তৃতীয়বার সফল হল। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ঝাঁজরা করে দিল মণীশ শুক্লার মাথা থেকে পেট পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গ। কিন্তু এত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বিজেপি কাউন্সিলরকে এমন নৃশংসভাবে খুনের সুযোগ কীভাবে পেল দুষ্কৃতীরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ধন্দে তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন: “পুরোপুরি শাস্তি পাবে হাথরসের ধর্ষিতার পরিবার”, দিলীপের পর বেফাঁস লকেট

জানা যাচ্ছে, মণীশ শুক্লার ২ নিরাপত্তারক্ষীই রবিবার থেকে সাতদিনের ছুটি নিয়েছিলেন। রবিবার সন্ধেয় যখন তিনি টিটাগড়ের পার্টি অফিসে যান, তখন সঙ্গে কোনও নিরাপত্তা রক্ষীই ছিল না। অথচ তা হওয়ার কথা নয়। তাহলে কি ইচ্ছা করেই নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করেছিল আততায়ীরা? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

দ্বিতীয়ত, কে বা কারা বাইক চড়ে এসে তাঁকে গুলি করে, তা চিহ্নিত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে আতান্তরে তদন্তকারীরা। দেখা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও, ঠিক অকুস্থলের সিসিটিভি ভাঙা। অর্থাৎ তার কোনও ফুটেজই ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। কেন ঠিক ওই জায়গায় সিসিটিভিই ভাঙা হবে? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

লাইসেন্স সংক্রান্ত কিছু কারণে গত ছ’মাসের বেশি পুলিশের কাছে জমা রয়েছে মণীশের রিভলভার। সব মিলিয়ে তিনি কিছুটা অরক্ষিতই ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল বলেই কি আততায়ীরা ওই সময়ে আক্রমণের ছক কষেছিল? অনেকের ধারণা, মণীশের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজন ছাড়া আর কারও পক্ষে এত বিশদ খোঁজখবর রাখা কঠিন। সে ক্ষেত্রে তাঁর চারপাশের ঘনিষ্ঠদের দিকেই সন্দেহের তির কিছুটা ঘুরে যায়। যদিও কারা এই ঘনিষ্ঠের দলে এখনই তার স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।

যদিও মণীশের হত্যা নিয়ে যাবতীয় সংশয় উড়িয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘‘এটা যে তৃণমূলের কাজ, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ আমাদের এক লড়াকু কর্মীর জীবন গেলে প্রতিপক্ষেরই লাভ।’’ ঘটনার দিন মণীশের দেহরক্ষী না থাকার প্রশ্নে অবশ্য দিলীপবাবুর সদুত্তর মেলেনি। এমনকি, রাজ্যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া বিজেপির লোকজনদের দীর্ঘ তালিকায় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ব্যক্তিরা থাকলেও মণীশ কেন ছিলেন না, তারও স্পষ্ট জবাব দিলীপবাবু দেননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ সবে আমার ভূমিকা নেই।’’

আরও পড়ুন: সামনে এল বিজেপি নেতা মণীশ হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ, গ্রেফতার ২

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest