বিচার চাইছে মাথাভাঙ্গা,অসহায়তা নিয়ে দাফন নিহতদের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়ই জানতে পারেন,নিহত একজনের রয়েছে সদ্যোজাত সন্তান এবং অন্য এক মৃতের স্ত্রী গর্ভবতী।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

হঠাৎই যেন বদলে গিয়েছে মাথাভাঙার আকাশ-বাতাসের গন্ধ। শনিবার, ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে চার জনের। এলাকার চার যুবকের এই অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এদিন হাসপাতাল থেকে দেহ আসতেই গ্রামবাসীরা সেই ১২৬ নম্বর বুথের সামনেই জড়ো হন। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা গ্রাম। সকলেই চাইছেন একবার জন্য গ্রামে আসুক মুখ্যমন্ত্রী। এদিন অবশ্য শিলিগুড়ি থেকে ভিডিও কলে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেও যেন আক্ষেপ থামছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন গ্রামবাসীরা। গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ, দোকানপাট বন্ধ।

মৃতদেহ নিয়ে বুকে কালো ব্যাজ পরে শোকমিছিল করেন গ্রামবাসীরা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়ই জানতে পারেন,নিহত একজনের রয়েছে সদ্যোজাত সন্তান এবং অন্য এক মৃতের স্ত্রী গর্ভবতী। তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন, রাজ্য সরকার সকলের পরিবারের দেখভাল করবে।

আরও পড়ুন : টিকা উৎসবের মধ্যে ভ্যাকসিনের আকাল, বেহাল দশার ছবি দেশজুড়ে

শনিবার মাথাভাঙার জোরপাটকায় আমতলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোটগ্রহণ চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ওই এলাকার বাসিন্দা মণিরুল মিয়াঁ, হামিদুল মিয়াঁ, ছামিউল মিয়াঁ এবং নুর ইসলাম মিয়াঁর।

রবিবার দুপুরে নিহতদের দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। দেহগুলি আমতলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিহতদের শেষ শ্রদ্ধা জানান গ্রামের বাসিন্দারা। উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। বিকালে দেহগুলি সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় দাফনের জন্য।

শনিবার ৪ জনের হত্যা দেখার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। কারও বাড়িতেই রান্নার আয়োজন দেখা যায়নি। গ্রামে বাহিনী নেই, তবে মূল ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। নিহতদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে। তাঁদের মধ্যে মনিরুল সিকিমে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। হামিদুলও মাথাভাঙায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ছামিউল ছিলেন মাথাভাঙা কলেজের ছাত্র।

নিহত মনিরুলের মামা ফোনে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাদের ভাগ্নে মনিরুল বাইরে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিল। ভোট দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে-সহ মোট ৪ জনকে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। তাদের সন্তান, বাবা-মা রয়েছে বাড়িতে। আমরা বিচার চাই। হত্যাকারীদের শাস্তি চাই। ভোট দিতে গিয়ে যদি খুন হতে হয় তা হলে দেশের আইন কেমন?’

নিহত হামিদুলের দাদা মঞ্জুর আলি মিয়াঁ হতাশ গলায় মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনে বলেন, ‘ও রাজমিস্ত্রির কাজ করত মাথাভাঙায়। আমরা অসহায়। ওর ৩ বছরের মেয়ে। স্ত্রীও গর্ভবতী। আমরা কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।’

আরও পড়ুন : বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’, প্রকাশ্যে হুমকি দিলীপ ঘোষের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest