পাঁচিল ভাঙার ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চায় বিশ্বভারতী! নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি, দাবি উপাচার্যের

বিশ্বভারতীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যেন ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশের পর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলার মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। তারই প্রতিবাদে সোমবার কয়েক হাজার মানুষ ক্যাম্পাসে ঢুকে ভেঙে দিয়েছেন বিশ্বভারতীর গেট। অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস ভেঙে চুরমার করার পাশাপাশি লুট করা হল নির্মাণসামগ্রী। এমনকী, জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে বহিরাগত হামলাকারীরা ভাঙচুর করলেন রবীন্দ্র প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি। সেই ঘটনায় এবার সিবিআই তদন্ত চায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয়, বিবৃতি দাবি করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘অশান্তির নেপথ্যে রয়েছেন দুই তৃণমূল নেতা। ডিএম-এসপিকে আগাম জানানো সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় থেকেছে পুলিশ। তাই এ বিষয়ে পুলিশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি।’ সেইসঙ্গে হামলার প্রতিবাদে বিশ্বভারতীতে ১২ ঘণ্টার অনশনের ডাক দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তারও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৌষ মেলার মাঠে শুধুমাত্র ৪ ফুটের পাঁচিল থাকবে, তার উপরে থাকবে ৩ ফুটের গ্রিল।

আরও পড়ুন: তথাগত কি ফের ফিরছেন বঙ্গ রাজনীতিতে, টুইটে এ কীসের ইঙ্গিত!

বিবৃতিতে বুধবার প্রশাসনের তরফে এব্যাপারে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে তাতে যোগদানের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সোমবারের তাণ্ডবের পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। ২৪ ঘণ্টা কাটলেও গ্রেফতার হয়নি কোনও অভিযুক্ত। তাণ্ডবের প্রতিবাদে বুধবার ১২ ঘণ্টার প্রতীকি অনশনে বসবেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও অধ্যাপকরা। তবে বুধবার প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে কেউ যোগ দেবেন কি না তা জানানো হয়নি বিবৃতিতে।

সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে থাকবেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রতিনিধি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যখন জানিয়েই দিয়েছেন তিনি পাঁচিল দেওয়ার বিরোধী, তখন বৈঠকে যোগদান অনর্থক।

আরও পড়ুন: জেলা হাসপাতালের বাইরে দীর্ঘক্ষণ পড়ে ভবঘুরের দেহ, ঠুকরে খেল কাক