‘দিলীপ ঘোষের জন্যই পদ্ম ফুটবে বাংলায়’, নমো-স্তুতিতে মুখ্যমন্ত্রীর জল্পনা তুঙ্গে

হঠাৎ কেন প্রশংসা? এই স্তুতি কি সত্যিই সার্টিফিকেট নাকি অন্য কোনও বড় সম্ভাবনার ইশারা?
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রশংসা শোনা গেল মোদির মুখে। দরাজ দিলখোলা প্রশংসা পেয়ে আপ্লুত দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘আমার দায়িত্ব বেড়ে গেল’। কিন্তু হঠাৎ কেন প্রশংসা? এই স্তুতি কি সত্যিই সার্টিফিকেট নাকি অন্য কোনও বড় সম্ভাবনার ইশারা?

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে গেরুয়া শিবির নামিয়ে এনেছে একের পর এক দাপুটে সৈনিককে। দিল্লি ছেড়ে বাংলা দখলের লড়াইয়ে এখন ভোটপ্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত, বাবুল সুপ্রিয়রা। এই সময়েই তাঁকে নিয়ে প্রশ্নটা ঘুরছিল বাজারে। অনেকেই বলছিলেন দিলীপ ঘোষের জন্য বরাদ্দ হতে চলেছে খড়্গপুর সদরের আসন। কিন্তু শেষমেষ বহু অপ্রত্যাশিত মোচড় থাকলেও দল দিলীপ ঘোষকে ভোট ময়দানে নামায়নি। যদিও তাতে গুরুত্ব কমেনি একচুলও। বরং সারামাঠ জুড়ে খেলছেন তিনি। কখনও পৌঁছে যাচ্ছেন কোনও হটস্পটে, কখনও আবার অপেক্ষাকৃত কম প্রচারের আলোয় থাকা প্রার্থীকে এগিয়ে দিচ্ছেন খানিকটা। সংগঠক হিসেব তিনি যে মারাদোনা, তা মেনে নিতে দ্বিধা করবে না দলের কেউই। আর তাঁর দল যখন সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার মতোই মরণবাঁচন ম্যাচ খেলছে, সেই সময়েই এলো মোদির সার্টিফিকেট। যাতে অনেকটাই স্পষ্ট হয় গেল বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন।

দিলীপ ঘোষের বর্তমান লোকসভা কেন্দ্র মেদিনীপুর ও আগের বিধানসভা কেন্দ্র খড়গপুরের মাটিতে এ দিন সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। বলেন, “আমি গর্বিত আমার দলে দিলীপ ঘোষের মতো সভাপতি আছেন।”

আরও পড়ুন: World Happiness Day: ভারতের থেকে সুখী পাকিস্তান, আরও সুখী বাংলাদেশ

খোদ প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে দিলীপের গালভরা প্রশংসার পিছনে যে একটা বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, তা স্বীকার করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কেননা, কেবল ‘গর্বিত’ বলে থামেননি নমো। তিনি আরও বলেছেন, “দলকে জেতাতে শেষ কয়েক বছর ধরে তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেননি।” তাঁর সংযোজন, “ওনার উপর অনেক হামলা হয়েছে। মৃত্যুর কোলে শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু, দিলীপ থেমে থাকেননি। দিনরাত এক করে কাজ করছেন। এই জন্যই আমি বলছি, এ বার বিজেপি সরকার।” মোদীর কথায় স্পষ্ট, দিলীপের কাঁধে ভর করেই বাংলায় পদ্ম ফোটানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।

আরও একটি লক্ষ্যণীয় বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি বারংবার তাঁর উপর একাধিক হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন, তাঁর সেই অভিযোগকেই পালটা দিলীপের পক্ষে খাড়া করেছেন তিনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে তীব্রভাবে জল্পনা শুরু হয়েছে, এ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে কি দিলীপ ঘোষকেই তুলে ধরলেন তিনি?

জল্পনা কোনও ভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেননা, একদিকে যখন নবান্ন দখলের মিশন নিয়ে বিজেপি নেমেছে, তখন নির্বাচন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী হিসাবে কারোর মুখ সামনে আনেনি বিজেপি। অমিত শাহ যদিও একাধিকবার বলেছেন, কোনও ‘ভূমিপুত্রকেই’ মুখ্যমন্ত্রী করা হবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে। তবে সেই ভূমিপুত্র কে, সেই ছবিটা স্বচ্ছভাবে ফুটে ওঠেনি বাংলায় মানুষের সামনে।

এই জল্পনা আসকারা পাওয়ার আরও দুটি বড় কারণ হল, দিলীপ আরএসএস থেকে বিজেপিতে এসেছেন। দ্বিতীয়ত, উত্তর প্রদেশ থেকে আসা আরেকটি বিলাসবহুল প্রচার গাড়ি। যে গাড়িতে করে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার করবেন দিলীপ। গাড়িটিতে ফ্রিজ, টিভি থেকে শুরু করে আরামদায়ক সফরের সব ধরনের সামগ্রী রয়েছে। রাজ্যে বিজেপির তারকা প্রচারকের সংখ্যা প্রচুর হলেও এই ‘ভিআইপি’ ব্যবস্থা করা হয়েছে কেবল দিলীপ ঘোষের জন্য। কিন্তু কেন? শনিবার খড়্গপুরে সভায় দিলীপের নামে মোদীর ঢালাও প্রশংসার পর সেই প্রশ্নটাই বেশি করে ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক মহলকে।

আরও পড়ুন: ‘দিদি হুইল চেয়ারে, দিলীপ ঘোষ ভ্যানিটি কারে!’ রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে বিঁধলেন দেবলীনা

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest