অবশেষে বিজেপির ‘দখলমুক্ত’ সংঘশ্রী! তৃণমূল মন্ত্রী-সাংসদের উপস্থিতিতে হল খুঁটিপুজো

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার পুজো হিসাবে পরিচিত কালীঘাটের সংঘশ্রী ক্লাবের দুর্গাপুজো নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোর চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। তবে রবিবার সেই টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ-সহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতেই খুঁটিপুজোর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর নান্দীমুখ করলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ক’দিন আগেই শোনা গিয়েছিল, সংঘশ্রীর এ বারের দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে। এমনকী পুজোর উদ্বোধন নিয়ে জলঘোলা হয়। শোনা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তে এ বছর ওই পুজোর উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও সংগঠনের একাংশ এমন সিদ্ধান্তে যারপরনাই বিরক্ত হন। স্বাভাবিক ভাবেই এ দিন খুঁটিপুজোর পর তাদের বলতে শোনা গেল, “রাহুমুক্ত’ হল সংঘশ্রীর দুর্গাপুজো”।

গত বছরেও সংঘশ্রীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছিলেন মমতা। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপির তুলনামূলক ভালো ফলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদল হতে শুরু করে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ স্বয়ং বঙ্গ-ব্রিগেডকে নির্দেশ দিয়েছেন বাঙালির আবেগজড়িত দুর্গাপুজোয় আরও বেশি করে মনোনিবেশ করতে। জানা যায়, সেই নির্দেশেরই প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায় সংঘশ্রীর দুর্গাপুজোয়।

যদিও সায়ন্তনকে পুজোর সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে ক্লাবের অন্দরে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সংঘের বর্তমান সভাপতি শিবশংকর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে অন্ধকারে রেখেই এমন রটনা চলছে। পুজোর সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে কোনো কিছুই তাঁকে জানানো হয়নি।

অন্য দিকে সায়ন্তনও জোরের সঙ্গে দাবি করেন, “সংঘশ্রীর পুজো কমিটিই আমার কাছে সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব রাখে। কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসাবে নয়, একজন হিন্দু বাঙালি হিসাবে পুজোর সভাপতিত্ব করতে চাই। এতে অসুবিধার কিছু দেখছি না। বারোয়ারি দু্র্গাপুজো কারও একার পৈতৃক সম্পত্তি নয়”।

কিন্তু এ দিনের খুঁটিপুজোয় দেখা মেলেনি তাঁর। এ দিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ মালা রায়, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, পুজোর উপদেষ্টা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। খুঁটিপুজোয় যোগ দিয়ে কার্তিকবাবু বলেন, “সংঘশ্রী পুরনো ক্লাব। এখানে রাজনীতি ঢোকানো হলে সাধারণ মানুষ মেনে নেবেন না। আমি এখানে দীর্ঘদিন রয়েছি। পুরনো কমিটিই পুজো পরিচালনা করছে”।

যাঁকে সঙ্ঘশ্রী থেকে দূরে রাখার জন্য এত তৎপরতা, সেই সায়ন্তন বসু এ দিন তীব্র কটাক্ষে বিঁধেছেন তৃণমূলকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি শুধু যাব বলেছিলাম। তাতেই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার, মন্ত্রী, সাংসদ, কাউন্সিলর— সবাই মাঠে নেমে পড়লেন। আমি সত্যিই পৌঁছে গেলে কী হত, বুঝতে পারছি না। তৃণমূলের এই থরহরি কম্প অবস্থাটা আমি বেশ উপভোগ করছি।’’ সায়ন্তন যা-ই বলুন, সঙ্ঘশ্রীর পুজোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে গিয়েও নিতে না পারাটা যে বিজেপির জন্য ধাক্কা, তা অস্বীকার উপায় কম।

অন্যদিকে, একডালিয়া এভারগ্রিনে খুঁটিপুজোয় অংশ নিয়ে বিজেপির ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি কটাক্ষ করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বলেন, “আগে এই বছরটা ওরা আমাদের কাছে ট্রেনিং নিক। ওরা পঞ্চায়েত, এম‌এল‌এ যে স্টাইলে দখল করছে, সেই স্টাইলে পুজো দখল করতে চাইছে। এভাবে হয় না। বিজেপি চাইলেও এরাজ্যের পুজো দখল করতে পারবে না।” একই সুর শোনা যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথাতেও। হুঁশিয়ারি দেন, “এরাজ‍্যে পুজোয় ওভাবে কবজা করা যায় না। পুজো কবজা করতে এলে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে বিজেপিকে।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest