দাবি, পালটা দাবির ফাঁকে লঘু বামেদের ‘পাপ’! ত্রিশঙ্কু বিধানসভা ধরে নিয়েই ছক তৃণমূল – বিজেপির

শীর্ষ রাজনৈতিক মহলে কথা বলে তবেই মমতা খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বুদ্ধদেববাবুর সরকারকে ক্লিন চিট দিলেন।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাল ঠুকে বলে দিলেন, প্রথম পর্বের ৩০টি আসনের মধ্যে ২৬টি তাঁদের পাওয়া হয়ে গিয়েছে। মোট আসন নাকি ২০০ ছাড়িয়ে যাবে। অথচ তাঁর দলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বহু জায়গায়। পরিস্থিতি বুঝে মুকুল রায় এখন নির্ভর করে আছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর। এখান-ওখান থেকে কর্মী এনে বুথে বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে হেরেও রেহাই পাওয়া যাবে না। অন্য‌ দিকে খোদ নন্দীগ্রামে জিততে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালঘাম ছুটে যাবে তা একে ওকে ফোন করা থেকেই স্পষ্ট। তিনিও বুঝতে পারছেন, প্রত্যাশামতো ফল হবে না। ত্রিশঙ্কু বিধানসভার ওপর তাঁকে নির্ভর করতে হবে।

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে সেটা অনুমান করে নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে নন্দীগ্রামে গুলিচালনা নিয়ে বিবৃতি দিতে হল। ২০০৭ সালের সেই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল সুরটি বাঁধা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যে কৃষকপ্রেমী এবং কৃষকস্বার্থে রাষ্ট্র ও পুঁজির দালালি করতে রাজি নন, সেই বার্তা গোটা বাংলা এবং কালক্রমে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে যায়।

নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের আন্দোলন বিশেষজ্ঞদের গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ভারত সরকার জমিনীতিকে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে কৃষকদের জন্য‌ নিরাপত্তার ব্য‌বস্থার স্বীকৃতি দিয়ে নতুন আইন প্রবর্তন করেন। সিপিআইএম-এর অভ্য‌ন্তরেও এ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এই রাজনীতি তুলে ধরার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করেছিলেন বামেরা এতটাই বিদেশি পুঁজির দালালে পরিণত হয়েছে, যে কৃষকদের হত্যা করতে হাত কাঁপে না। কিন্তু রবিবার বিরুলিয়া বাজারের প্রচারসভা থেকে মমতা পরিষ্কার বললেন, বাম সরকার গুলি চালায়নি। অধিকারী পরিবারের পরিচালনায় তাঁদেরই মদতপুষ্ট ‘চটি পরা’ পুলিশ গুলি চালিয়েছে। পালটা শিশির অধিকারীও জানিয়েছেন, পুলিশের সঙ্গে মিলে ছক কষেছিলেন মমতা স্বয়ং। সেই কারণেই তিনি সে দিন সামনের সারিতে থাকা পুলিশ অফিসারদের ভালো ভালো পোস্টিং দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘হাথরাস ধর্ষণের সময় কোথায় ছিলেন?’, নিমতা কাণ্ডে শাহকে পালটা তোপ মমতার

যে দাবিই সত্য‌ হোক না কেন, বেশ ভালো করেই বোঝা যাচ্ছে এই দাবি, পালটা দাবির ফাঁকে বামেদের ‘পাপ’ অনেকটাই লঘু হয়ে গেল। কৃষকদের ওপর গুলিচালনার কোনো বাসনা বা জোর করে জমি কাড়ার কোনো প্রয়াস যে তাদের ছিল না, এই কথাটাই তারা এখন প্রচার করতে শুরু করেছে। অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য়কে দিয়ে এ ব্যাপারে বিবৃতি দেওয়ানো হয়েছে। একটু ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে মমতা নিজেই তাঁর এত দিনের রাজনীতিকে অনেকটা লঘু হতে দিলেন। সিপিএম তাঁর করে দেওয়া জমিটা ব্য‌বহার করছে মাত্র।

কিন্তু কেন? তিনি মনে করেন, ঝুলন্ত বিধানসভায় টায়ে টায়ে লক্ষ্যমাত্রার কাছে পৌঁছোলেও সরকার বাঁচাতে তাঁকে সংযুক্ত মোর্চার ওপর নির্ভর করতে হবে। তারা যদি সরাসরি সমর্থন না দিয়েও এমনটা একটা কৌশল নেয় যাতে কোনো মতেই বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসীন হতে না পারে তা হলেই তৃতীয় বার তৃণমূল কংগ্রেস সরকার টিকে যেতে পারবে। সংযুক্ত মোর্চার মূল চালিকাশক্তি সিপিএমের হাতে রয়েছে তাঁর সরকার টিঁকিয়ে রাখার চাবিকাঠি। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ রাজনৈতিক মহলে কথা বলে তবেই মমতা খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বুদ্ধদেববাবুর সরকারকে ক্লিন চিট দিলেন।

কিন্তু তাতে কি বামেরা সন্তুষ্ট হবে? মনে রাখতে হবে তারা যা-ই ফল করুক না কেন, নিচুতলার কর্মীদের দাবি মেনে তাদের আগে তৃণমূলকেই হটাতে হবে না হলে এত দিন ধরে অত্যাচার সয়ে আসা কর্মীবাহিনী হয় দলত্যাগ করবে নয়তো বসে যাবে।

অন্য‌ দিকে গোষ্ঠীনেতাদের আনুগত্য‌ ধরে রাখার জন্য‌ বিজেপি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসই হোক বা অন্য‌ কোনো রাজনৈতিক দল – বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করা যে সব নেতা জিতে আসবেন তাঁদের ওপর গোষ্ঠীগত ভাবে চাপ সৃষ্টি করে যাতে বিজেপির পক্ষে আনা যায় সেটাই হল আসল উদ্দেশ্য‌। মতুয়া, রাজবংশী, কোচ, পীরের অনুগামী, আদিবাসী সম্প্রদায়, অনুন্নত সম্প্রদায়ের প্রার্থীরাই তাদের টার্গেট। খুব সম্ভবত আগামী পর্বের নির্বাচনের আগে তারা পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের কোনো নেতাকে সামনে এনে বাজিমাত করার চেষ্টা চালাবে। সেই কারণে বিজেপির বিশেষজ্ঞ বাহিনী তৃণমূলপ্রার্থীদের ওপর দৃষ্টি রেখেছে।

আরও পড়ুন: ৩৫৫ বুথের আসনে ২২ কোম্পানি বাহিনী, নন্দীগ্রামে জারি হল ১৪৪ ধারা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest