‘আমার কোনও আফসোস নেই’, নির্বিকার আকাঙ্খা–খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উদয়ন

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আকাঙ্খা শর্মা খুনের ঘটনায় উদয়ন দাসকে মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করে বাঁকুড়া আদালত। আজ, বুধবার, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেন বাঁকুড়ার ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্টের বিচারক সুরেশ বিশ্বকর্মা। এদিন সাজা ঘোষণার পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উদয়ন নির্বিকারে বলে, ‘‌আমার কোনও অনুশোচনা নেই। এবার প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যাব।’‌

বাঁকুড়ার বাসিন্দা প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদয়নের কীর্তি প্রকাশ্যে আসার পর ২০১৬ সালে সারা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খুন, অপহরণ, দেহ ও তথ্য লোপাটের মামলার দোষী সাব্যস্ত হয় সে। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, খুনের ঘটনায় উদয়ন দাসকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন বিচারক। সেই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ২ বছরের জেল। তথ্য লোপাটের ঘটনায় ২ বছরের জেল। ২ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। উদয়নের আইনজীবী জানান, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন। আকাঙ্ক্ষার পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা ফাঁসির সাজা চাইছিলেন। কিন্তু আদালতের রায়কে সম্মান জানাতে হবে।

আরও পড়ুন: Lockdown in Bengal: বন্ধ স্কুল- কলেজ, রাজ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সম্পূর্ণ লকডাউন, দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা…

কী ঘটেছিল?

বাঁকুড়ার রবীন্দ্রসরণির বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা শর্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় উদয়নের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। ২০১৬ সালের ২৩ জুন আমেরিকায় ইউনিসেফের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোন আকাঙ্ক্ষা। সেই ভুয়ো নিয়োগপত্রটি ছিল প্রেমিক উদয়নের দেওয়া। কিন্তু তা টের পাননি আকাঙ্ক্ষা। ভোপালের সাকেতনগরে উদয়নের বাড়িতে পৌঁছনোর পর তাঁকে ১৫ জুলাই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তাঁর দেহ একটি টিনের বাক্সে ভরে সিমেন্টের বেদি করে গেঁথে দেয় উদয়ন।

বিভ্রান্ত করার জন্য আকাঙ্ক্ষার ফোন থেকেই, তাঁর বাড়ির সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠাতে থাকে উদয়ন। আমেরিকায় পৌঁছে গিয়েছে বলেও মেসেজ পাঠিয়ে দেয় সে। এ ভাবেই আকাঙ্ক্ষার পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে থাকে উদয়ন।পরিবার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত ৫ ডিসেম্বর বাঁকুড়া সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। মোবাইল লোকেশন থেকে জানা যায়, ভোপালের সাকেতনগর থেকে মেসেজ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি উদয়নের বিরুদ্ধে আকাঙ্ক্ষাকে অপহরণের মামলা করেন তাঁরা।

ওই বছরই ১ ফেব্রুয়ারি ভোপালে গিয়ে বাঁকুড়া পুলিশ উদয়নকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার হয় আকাঙ্ক্ষার দেহাবশেষ। তার পর জেরায় পুলিশ জানতে পারে, উদয়ন তার বাবা বীরেন্দ্রকুমার দাস ও মা ইন্দ্রাণী দাসকেও ২০১০ সালে খুন করে ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের বাড়ির বাগানে পুঁতে দিয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের কঙ্কাল উদ্ধার হয়। আকঙ্ক্ষা খুনের ঘটনায় তিন মাসের মধ্যে চার্জশিট দেয় বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, বিকেল থেকে দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস, সন্ধ্যায় বইবে ঝোড়ো হাওয়া