চার-পাঁচ জনের ধাক্কা, মুখ থুবড়ে পরে গুরুতর আহত মমতা, কনভয় কলকাতার পথে

নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

প্রচারে গিয়ে নন্দীগ্রামে আহত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেয়াপাড়ায় একটি মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরনোর সময় ধাক্কা নেরে তাঁকে চার-পাঁচজন ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেত্রীর মাথায়, কপালে এবং পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। তাই প্রচার মাঝপথে বন্ধ রেখেই কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তাঁকে। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।

আঘাত পাওয়ায় প্রচার বন্ধ রেখেই কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে। রাস্তায় তাঁর গাড়ি ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা। তাঁদের মমতা বলেন, ‘‘ভিড়ের মধ্যে ৪-৫ জন বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছিল। ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আমাকে। ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা মারা হয়। এর পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল।’’ পড়ে গিয়ে পা ফুলে গিয়েছে বলেও জানান মমতা। গাড়ির দরজা খুলে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, ‘‘দেখো কিতনা ফুল গয়া।’’ ঘটনার সময় স্থানীয় পুলিশের কেউ ঘটনাস্থলে ছিল না বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নন্দীগ্রামে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কলকাতায় ফিরে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু আহত মমতাকে আপাতত কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে মমতাকে। বেলভিউ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হবে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতীক পেল আব্বাসের ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, জেনে নিন কোন চিহ্নে লড়বেন তাদের প্রার্থীরা

বুধবার হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রামে ফিরে আসেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়া থেকে ফিরে গাড়ি নিয়ে একাধিক মন্দিরদর্শন সারতে বেরিয়েছিলেন দলনেত্রী। সব শেষে রেয়াপাড়ায় যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছেন, সেখানকার রানিচকের একটি মন্দিরে হরিনাম-সঙ্কীর্তন শুনতে যান। আরতি করেন। সেখান থেকে বেরনোর সময়ই ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, ভিড়ের মধ্যে আচমকা ধাক্কা দেওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে যান মমতা। কপালে ও মাথায় আঘাত লাগে তাঁর। আঘাত লাগে বাঁ পায়েও। সেইসময় ঘটনাস্থলে পুলিশের কেউ ছিল না বলে অভিযোগ। দেহরক্ষীরাই কোনও রকমে তুলে গাড়িতে নিয়ে যান মমতাকে। রেয়াপাড়ায় ভাড়া নেওয়া বাড়ির উদ্দেশে তাঁকে নিয়ে রওনা দেয় গাড়ি। কিন্তু পথেই অসম্ভব যন্ত্রণা অনুভব করেন মমতা। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে একটি দোকান থেকে বরফ নিয়ে তাঁর পায়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতে আরও যন্ত্রণা আরও বাড়ে বলে জানা গিয়েছে। পিঠেও যন্ত্রণা অনুভব করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে তাঁর গাড়ি। স্থানীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর পা রীতিমতো ফুলে গিয়েছে। আপাতত ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে তাঁর পায়ে। ব্যথা পাওয়ার পর যন্ত্রণায় জ্বর চলে এসেছে তাঁর।

মমতা বলেন, ‘আমি গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে নমস্কার করছিলাম। তখন চার-পাঁচজন লোক আচমকা দরজা বন্ধ করে দেয়। পায়ে খুব আটকে গিয়েছিল। পা পুরো ফুলে গিয়েছে। অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা করেননি। এটা চক্রান্ত তো বটেই। চক্রান্ত তো বটেই। পুলিশ সুপার ছিলেন না। সারাদিন অনুষ্ঠান করলাম। আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।

আরও পড়ুন: WB election 2021: সংঘের আপত্তিতে টিকিট পাচ্ছেন না বৈশাখী, ক্ষুব্ধ শোভন সরছেন প্রচার থেকে

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest