লোকসভায় ব্যর্থ বিজেপি, বিধানসভায় দাঁত ফোটাতে আজ উদ্বাস্তু পরিবারে মধ্যহ্নভোজ শাহের, জেনে নিন মেনু…

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দাঁত ফোটাতেও পারেনি বিজেপি।

রাজ্যে ১৮ টি আসন এসেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। তাই সেই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস একাধিপত্যে থাবা বসাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। তারই অঙ্গ হিসেবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আসছেন অমিত শাহ। নামখানা থেকে বিজেপির শেষ অর্থাৎ পঞ্চম ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র (রথযাত্রা) সূচনা করবেন। সঙ্গে উদ্বাস্তু পরিবারের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন।

একটা সময়ে বাবার হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার (South 24 Parganas) কাকদ্বীপের নারায়নপুরে আসেন সুব্রত বিশ্বাস। কোনওরকমে থাকতেন ছোট্ট একটা ঘরে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকায় ঘর তৈরি করেছেন। মাছ বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে স্ত্রী-মেয়েদের নিয়ে সংসার সুব্রতবাবুর। স্ত্রী অর্চনাদেবী একটি গেস্টহাউসে রান্নার কাজ করেন। চার মেয়ের তিনজনেরই বিয়ে দিয়েছেন বিশ্বাস দম্পতি। কন্যাশ্রীর সুবিধে পেয়ে একমাত্র অবিবাহিত কন্যা সীমা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে।  তাঁদের বাড়িতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খেতে আসছেন শুনে প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় পড়েছিলেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: কীভাবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পাবেন ভেলোরে? জেনে নিন সবটা

গৃহকর্তা সুব্রত বিশ্বাস জানান, “প্রথমে তো বিশ্বাসই হয়নি আমাদের ঘরে খাবেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! কিভাবে আপ্যায়ন করব, কী খেতে দেব ভাবতে ভাবতেই কয়েকটা দিন কেটে গিয়েছে। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব আমাদের ভরসা জুগিয়েছেন। নিজেদের যেমন সামর্থ্য তেমন আয়োজনই করতে বলা হয়েছে। নিরামিষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য।” কী কী থাকছে শাহি মেনুতে? জানা গিয়েছে, শাহের বৃহস্পতিবারের মেনুতে থাকবে ভাত, ডাল, রুটি, বেগুনভাজা, দু’রকমের সবজি, পাঁপড়, চাটনি, দই ও মিষ্টি। বুধবার সন্ধে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তোড়জোড়।

যদিও বুধবার দিনভর নাজেহাল হতে হয়েছে বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের। মাঝেমধ্যেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর আনাগোনায় ব্যতিব্যস্ত হওয়া আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে অত্যন্ত সাধারণ বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের। করতে হয়েছে কোভিড পরীক্ষাও। বিশ্বাস দম্পতির ইচ্ছা, সুযোগ পেলে নিজেদের অনটনের কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাবেন। যদিও এখনও কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন সুব্রতবাবু। বললেন, “দেখা যাক কী হয়! কতটা কি জানাতে পারি তাঁকে।”

শেষ জনসভায় মতুয়াদের উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ঠাকুরনগরের সভায় অমিত শাহ শুধু বলে গিয়েছেন, ‘গণ টিকাকরণ মিটলেই কার্যকরী হবে নাগরিকত্ব আইন।‘ এদিন উদ্বাস্তু পরিবারে মধ্যহ্নভোজের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কি বার্তা দেন, তার দিকে নজর রাখবেন মতুয়ারাও।

আরও পড়ুন: ‘র‍িগিং যদি করতেই হয় আমরাই করব’, বেফাঁস মন্তব্যে হুমকির সুর সৌমিত্র খাঁ’র গলায়