তৃণমূলের নয়া চমক! পুরভোটে প্রচারের অস্ত্র এবার ‘বাংলার গর্ব মমতা’

কলকাতা: সামনে পুরভোট। একুশের নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে পুরভোট কার্যত সেমিফাইনাল ম্যাচ। উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরেই জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মমতা বাহিনী। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দারুণ সাড়া পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। জনসংযোগে জোর দিতে পুরভোটের আগে আরও এক নয়া কর্মসূচি ঘোষণা করে চমক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত টানা ৭৫ দিন ব্যাপী চলবে তৃণমূলের বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি ‘বাংলার গর্ব মমতা’।

সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েকটি পর্যায়ে পালিত হবে কর্মসূচি। প্রথম ধাপে ৭ মার্চ থেকে ১৫ তারিখ, দ্বিতীয় ধাপে ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল এবং তৃতীয় ধাপ ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত প্রচার চলবে। কর্মসূচিকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক ভাগে –

BGM new event

কী এই নয়া কর্মসূচি?

বাংলার গর্ব মমতা হল তৃণমূল কংগ্রেসের ৭৫ দিনের একটি নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি। চলবে ২ মার্চ থেকে ১০ মে। এই কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭৫ হাজারেরও বেশি দলীয় নেতা ও তৃণমূল স্তরের কর্মী ১৫ হাজার জনবসতিতে যাবেন এবং সারা বাংলার প্রায় ২.৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছবেন। মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। কর্মসূচি প্রকাশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এটি মমতাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধনের সুযোগ করে দেবে।

আরও পড়ুন: পুরভোটের মুখে সেই মিস কলেই ফিরল বিজেপি! শাহের হাতে সূচনা হল, ‘আর নয় অন্যায়’ কর্মসূচির

প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর টিমের তৈরি এই ইভেন্ট লঞ্চের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মমতা। যিনি অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের নেতা কর্মীদের সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করালেন। এই নয়া কর্মসূচির কথা জানিয়ে একটি পুস্তিকা সরবরাহ করা হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখেই তৃণমূল আসন্ন পুরভোটে ঝাঁপাতে চলেছে বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। পুরভোটের আগে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে রবিবারই কলকাতার শহিদ মিনারের সভা থেকে ‘আর নয় অন্যায়’ কর্মসূচির সূচনা করেছেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তার ঠিক পরের দিনই জনসংযোগে আরও ঝাঁপাতে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে চমকে দিল জোড়াফুল শিবির।