হাতছানি দিচ্ছে ঘাটশিলা! করোনা কাটলেই আবার বেরিয়ে পড়তে হবে সবুজ প্রান্তরে…

সর্ষে পায়ে বাঙালির এখন দুঃসময়। যারা ঘরের খাঁচায় কম সময় থাকেন আর বেশির ভাগ সময় ডানা মেলে উড়ে উড়ে বেড়ান তাঁদের কষ্ট কম নয়। তারা শুধু অপেক্ষা করে আছেন কবে আবার ট্রেন-বাস চলবে, মানুষ  আবার প্রাক করোনা কালের মতো পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াবে। তবে করোনা উঠলেই যে উথলে পড়তে হবে ভ্রমণ পিপাসুদের তা নয়। অনেক শর্ত নিয়েই মিলবে ছাড়। তাই আজ একেবারে ঘরের পাশে এক সবুজ প্রান্তরের কথা।

দু-একদিনের ছুটি নিয়ে সবুজের দেশে পাড়ি  দেওয়ার কাছেপিঠে পর্যটন স্থান ঘাটশিলা এককথায় অনবদ্য। অমর কথাসাহিত্যিক বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত শহর ঘাটশিলা কলকাতা থেকে মাত্র ২১০ কিলোমিটারের মত। হাওড়া থেকে  রয়েছে সরাসরি ট্রেনও। তা ছাড়া জাতীয় সড়ক ধরেও যাওয়া যায় প্রাইভেট কারে।

ছোট ছোট পাহাড়, টিলা, লেক, ড্যাম সুবর্ণরেখা নদী এসব মিলেমিশে ঘাটশিলা সত্যি উপভোগের। সাথে রয়েছে কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি গৌরীকুঞ্জ এবং স্থানীয় কিছু মন্দির। পর্যটন প্রিয়  বাঙালির  ঘাটশিলা আকর্ষণ বরাবরই। পশ্চিমবঙ্গের গা ঘেঁষা ঝাড়খন্ডের পূর্ব-সিংভুম জেলার শহর এটি| আগে ধলভূমগড় রাজার রাজধানী ছিল এখানে| বাঙালি প্রচুর দেখা মেলে| কলকাতা থেকে সরসরি ট্রেন মেলে| ঘন্টা তিনেকের জার্নি| হাওড়া থেকে সকাল ৬-৫৫-এর ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরলে দশটা নাগাদ পৌছে যাওয়া যায় ঘাটশিলাতে| এছাড়া রয়েছে বিকালে স্টিল এক্সপ্রেস বা হাওড়া রাঁচি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (বৃহ, শুক্র ও শনিবার)| এছাড়া লোক্যাল ট্রেন রয়েছে খড়গপুর থেকে| থাকার জন্য অসংখ্য হোটেল রয়েছে এখানে| অন্বেষা, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি হোটেল ছাড়াও রয়েছে ঝাড়খন্ড সরকারের টুরিস্ট কম্প্লেক্সও|

scan71

স্টেশন চত্বরেই ভাড়ার গাড়ি মেলে অসংখ্য|  দুএকদিন থাকলে সত্যি ভালো লাগার জায়গা এই ঘাটশিলা| প্রথমেই দেখে নেওয়া যায় স্টেশন থেকে তিন কিলোমিটার দুরে ফুলডুঙরি টিলা| ছোট্ট পাহাড় গাছ-গাছালিতে ঢাকা, একফালি রাস্তা ধরে উপরে ওঠা যায় গান ও নৃত্যের তালে তালে| উপরে উঠে দেখুন ঘাটশিলা থেকে দুরের নয়নাভিরাম দৃশ্য| দেখা হলে চলুন ৯ কিলোমিটার দুরে  বুরুডি লেক| লেকের সৌন্দর্যে আপনি বিভোর হবেনই| নিশ্চল লেকের সাথে আপনি কথা বলতে পারেন, হারিয়ে যেতে পারেন লেকের পাড়ে| এখানে রয়েছে বোটিং-এর ব্যবস্থা|

আরও পড়ুন: লকডাউনের জেরে নেই জন সমাগম, ইতিহাসের নীরব ফিসফিসানি হুগলি ইমামবাড়া জুড়ে…

16510719279 45ee3b59e7 b

ধারাগিরি ফলস এখান থেকে আরো ৫ কিলোমিটার| এরমধ্যে ১ কিলোমিটার পথ যেতে হবে গভীর অরণ্যের মধ্য দিয়ে| এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি| প২০-২৫ ফুট উপর থেকে জলপ্রপাত দারুন লাগে দেখতে| যাওয়া আসা দু-কিলোমিটার গভীর অরন্যে হাঁটার আনন্দ দীর্ঘদিন আপনার স্মৃতিকে যে আবেশিত করে রাখবে তা বলাই বাহুল্য|

এরপর চলুন ১০ কিলোমিটার দুরে গালুডি ড্যাম| সুবর্ণরেখে নদীর উপর এই ড্যাম সত্যি দেখার মত| যাবার রাস্তাটি ও রোমাঞ্চকর| এবার দেখা যেতে পারে অমর বাঙালি কথাসাহিত্যিক বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি| নাম গৌরীকুঞ্জ| টালির ছাদের বাড়িতে সাহিত্যিকের স্মৃতি বিজড়িত দৈনন্দিন ব্যবহৃত সামগ্রীর দেখা মেলে| পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এই কুঞ্জ টি সত্যিই ভোলার নয়|

এছাড়া দেখা যেতে পারে ধলভূমগড় রাজার হাতে নির্মিত মা রঙ্কিনীদেবীর মন্দির| এখানে স্থানীয় সাঁওতালদের প্রিয় বিন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়| হাতে সময় থাকলে ঘুরতে পারেন পঞ্চপান্ডব পাহাড়, দেখতে পারেন রাতমোহনার সূর্যাস্ত| পরের দিন আরেকটু দুরে ধলভূমগড় ঘুরে আসতে পারেন| প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ফলসের রোমাঞ্চ আপনাকে মুগ্ধ করবেই|

ঘাটশিলা থেকে ফিরতে ঐ স্টিল, ইস্পাত বা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস রয়েছে| ঘন্টা তিনেকের মধ্যে হাওড়া পৌছে মিলিয়ে যান নিরিবিলি থেকে কোলাহলে|

আরও পড়ুন: হিমালয়ের হাতছানি! পর্যটকদের জন্য খুলতে চলেছে হিমাচলপ্রদেশ, মানতে হবে স্বাস্থ্য বিধি