ভারতে মহামারীর আকার নিতে পারে করোনা ভাইরাস, আশঙ্কা আমেরিকার

ওয়েবডেস্ক:  চিনের বাইরেও অন্যান্য দেশে কী ভাবে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস, সেদিকে নজর রাখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। কোন দেশের সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। একবার ছড়িয়ে পড়লে ভারতে এই ভাইরাসের আক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

চিন নয়, চিনের বাইরের বাকি দুনিয়াই এখন করোনাভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। এ কথা  দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর বসাল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা। তারা জানাল, একবার যদি ছড়িয়ে পড়ে, তবে একে সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর সেই তালিকায় সবার আগে থাকবে ঘনজনবসতিপূর্ণ দেশগুলি। উদাহরণ হিসেবে সবার প্রথমে যে দেশটির নাম পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা গুপ্তচর তালিকায়, সেটি হল ভারত!

ঘনজনসংখ্যার এই দেশে করোনভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সেটাই ভয় বাড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

চিনের বাইরেও অন্যান্য দেশে কী ভাবে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস, সেদিকে কয়েক দিন ধরেই কড়া নজর রাখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। কোন দেশের সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকেই তাদের আশঙ্কা, ভারতে একবার ছড়িয়ে পড়লে এই ভাইরাসের আক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিন জনই দেশটির দক্ষিণের রাজ্য কেরালার বাসিন্দা৷ তবে চিকিৎসার পর তিন জনই আপাতত সুস্থ। তা সত্ত্বেও নিশ্চিন্ত হতে পারছে না মার্কিন গুপ্তচর সংস্থাগুলি। তাদের আশঙ্কা, ভারতের যা জনসংখ্যা, তাতে যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। তা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে তো ভারতের?

সমস্ত উন্নয়নশীল দেশের চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়েই তারা উদ্বিগ্ন বলে ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর গুপ্তচর কমিটি পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। করোনা নিয়ে সেখানেই সরাসরি রিপোর্ট করে গুপ্তচর সংস্থাগুলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং আর্থিক সংস্থান রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে ওই কমিটি। সেন্টার অব ডিজিস কন্ট্রোল-এর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তাদের।
korona
অন্যদিকে, ইরানে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত সে দেশে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২৪৫। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে  ১০৬ জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিনের বাইরে এখনও পর্যন্ত ইরানেই মৃতের সংখ্যা এই সব থেকে বেশি। মারণ অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন খোদ সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমে এবতেকর!
সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ জন।
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৫ জন। এর মধ্যে শুধু চিনের হুবেই প্রদেশেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪২৪ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ৭৮৮ জন।