নিজের লোককে খুন করে হিন্দু-মুসলমান বিভাজন করছে বিজেপি, রানাঘাটে তোপ মমতার

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে বাঙালি হবেন, সেটাকেও বাড়তি পাওনা বলে ধরতে হচ্ছে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

লোকসভায় হোক কিংবা বিধানসভা, পুর নির্বাচন হোক কিংবা পঞ্চায়েত বিজেপির মুখ নরেন্দ্র মোদী। দুঃখের বিষয় বাংলার কোনও নেতার ওপর ভরসা করছে না কেন্দ্রের বিজেপি। ঠিক সিরাজকে সরিয়ে যেমন বাংলার সিংহাসনে মীরজাফরকে ব্রিটিশ বসিয়েছিল, ঠিক সেই একই ছক শাহ-মোদীর। বারবার তার প্রচারে বলছেন বাংলার কোনও ভূমিপুত্রকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। ঠিক যেন বঙ্গবাসীর ওপর কৃপা করছেন, এই গুজরাটি নেতারা।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে বাঙালি হবেন, সেটাকেও বাড়তি পাওনা বলে ধরতে হচ্ছে। যেহেতু বিজেপির ভোটব্যাংকের একটা বড় অংশ অবাঙালি, তাই তারা মোদীর জয় চাইছেন। তারা অনেকেই একই বাংলায় থাকেন বংশপরম্পরায়। কিন্তু বাংলাকে তারা অনেকেই আপন করে নেননি। তারই ফায়দা তুলতে মরিয়া বিজেপি। বাঙালি -অবাঙালি , হিন্দু-মুসলিম, এমনকি মতুয়াদের সঙ্গে বাকিদের একটা বিভাজন করতে চাইছে তারা। সে কারণেই মমতা বলছেন এই লড়াই বাংলা বাঁচানোর লড়াই।

আরও পড়ুন : বিচার চাইছে মাথাভাঙ্গা,অসহায়তা নিয়ে দাফন নিহতদের

‘রাজনীতি মানে করে খাওয়া নয়, রাজনীতি মানে গুলি চালানো যায় না।’ হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বিজেপি। আক্রমণ মমতার।  তিনি আরও বলেন , রানাঘাটের মানুষকে বলব, আপনারা নিশ্চয়ই চান, আমরা শান্তিতে থাকি। গুলি করে মানুষ মারতে যেন না হয়। আমি ২১ জুলাই দেখেছি। আমার ১৩ জন শহিদ হয়েছিল। গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে বলছে ৪ জনের জায়গায় ৮ জনকে মারা উচিত। এই বিজেপি-র নেতা, এরা দেশের নেতা হবে। এদের আপনারা ভোট দেবেন? এরা নিজের গাড়ি নিজে ভাঙবে, নিজে নিজের চরিত্রহনন করে ভোট চাইবে। তাই বলছি কখনও কখনও নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে হয়। আজকের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বাংলাকে বাঁচানো।

কটাক্ষ করে নেত্রী বলেন, বিজেপির নেতাদের আমাকে এত ভয় যে, কেবল আমাকে মোকাবিলার জন্য এক লক্ষ নেতা এনে হোটেলে বসে রয়েছে।পুলওয়ামার ঘটনার উল্লেখ করে মমতা বলেন , আমাদের মনে আছে। কাদের মারতে গিয়ে নিজেদের লোককে মেরে চলে এসেছিলেন, জানি না ভেবেছেন? বেশি মুখ খোলাবেন না। আমরা দেশকে ভালবাসি। তাই অনেক কিছু বলি না। ট্রাম্পের হয়ে মিটিং করতে গিয়েছিলেন। এখন মতুয়া ভোট পেতে মতুয়াদের সাংসদকে নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিলেন। রোজ বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের অনুপ্রবেশকারী বলেন। আর ভোট চাইতে সেখানেই যান।

কাউকে ছেড়ে দেব না। যারা গুলি চালিয়েছিল, সিআইএস-এর থেকে তাদের নাম বার করে নিয়েছি। আমি কিন্তু এই ঘটনাটায় ছেড়ে কথা বলব না। আমাকে অত বোকা ভাবার কোনও কারণ নেই। সব জোগাড় করেছি, আরও করব।

খুনের পর বিজেপি-র প্রেসিডেন্ট, সে বলছে গুলি চালিয়ে দাও। এ বলছে ৪ জনকে মারো, ও বলছে ১২ জনকে মারো। লজ্জা করে না কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্ররোচনা দিতে? গোটাটাই অমিত শাহের পরিকল্পনায় হয়েছে। গুলি করে খুন করার পর ক্লিনচিট দিচ্ছেন। লজ্জা করে না?প্রধানমন্ত্রী জানেন। তার পরেও ক্লিনচিট দিচ্ছেন। শোভা পায় না। বুলেটের বদলে বুলেট চাই না, ব্যালটে চাই।

জনসভায় মমতা প্রশ্ন করে বলেন,অসমে এনআরসি-তে যে ১৪ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছিল, তখন মনে পড়েনি ওই মানুষগুলি হিন্দু? তখনও প্রতিবাদ করেছিলাম। কোভিডের সময় কোথায় ছিল বিজেপি-র নেতারা? শুধু ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে।

সকালে যে রাজবংশী ভাইটি মারা গিয়েছে তাঁর মৃত্যুতেও দুঃখ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি তাকেও সাহায্য করব। তার আগে গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ রাজবংশীর সবচেয়ে বড় নেতা, তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছো, তিনি রাজবংশী নন? ভোট পেতে হিন্দু-মুসলমান করছে। বিজেপি তুমি নিজের কর্মীকে নিজের হত্যা করেছো, লজ্জা নেই? আমি নিন্দা করছি। এমন চললে সমাজ থাকবে না।

নেত্রী প্রশ্ন করেন ,কী দেখে ভোট দেবেন এদের। গ্যাসের দাম কত? আমি বিনা পয়সায় চাল দেব আর আপনারা ১০০০ টাকার গ্যাস কিনে সেই চাল ফোটাবেন? ২০০-৫০০ দিতে এলে বলবেন, চাই না। ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেছিল, আগে সেই টাকা চাইবেন।

আরও পড়ুন :বুক লক্ষ্য করে গুলি করার নিদান সায়ন্তনের! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest