Babul Supriyo may change his track and moved from politics or bjp very quick.

Babul Supriyo: রাজনীতি না বিজেপি, কোনটা ছাড়ছেন বাবুল! জোর জল্পনা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়ার পর কি রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়? টানা সাত বছর সক্রিয় রাজনীতিতে (এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে) থাকার পর কি রাজনীতি থেকে পুরোপুরিই বিদায় নিতে চলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? গত কয়েকদিনে তাঁর ব্যবহারিক গতিপ্রকৃতি দেখে তেমনই মনে হচ্ছে। একের পর এক ফেসবুক পোস্টে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ তো বটেই, নিজের ‘টুইটার বায়ো’-তে যে ভাবে সামগ্রিক ভাবেই রাজনীতি থেকে নিজের দূরত্ব রচনা করেছেন বাবুল, তাতে তাঁর ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ইঙ্গিত ক্রমশ জোরালো জল্পনায় পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশিই স্পষ্ট হচ্ছে রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর বীতশ্রদ্ধা।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী আসনসোলবাসীর কাছে আর্জি রেখেছিলেন ‘মুঝে বাবুল চাহিয়ে।’ সেই আর্জি রেখেছিলেন আসানসোলবাসী। বাবুল সুপ্রিয়কে জিতিয়ে বিজেপির সাংসদ বানিয়ে তাঁকে দিল্লি পাঠিয়েছিলেন। মোদীও সেই জয়ের জন্য পাল্টা উপহার হিসাবে বাবুলকে কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন। ২০১৯ সালেও বাবুল জিতেছেন আসানসোল থেকে রেকর্ড ভোটে। শুধু তিনি নয়, বাংলা থেকে বিজেপির ১৮জন সাংসদ জিতেছিলেন। প্রায় সকলেই ধরে নিয়েছিলেন বাংলা থেকে এবার অন্তত ৪-৫জন মন্ত্রী হবেন। ক্যাবিনেটেই হয়তো ২জন থাকবেন। তার মধ্যে একজন নিশ্চয়ই বাবুল। কিন্তু সে হিসাব মেলেনি। মোদী বাবুলকে যেমন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী করেননি তেমনি বাংলা থেকেও মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়াননি। তবে এবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার জেরে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বাংলা থেকে ৪জন সাংসদকে কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী করেছেন মোদী। কিন্তু সেই তালেই গদি গিয়েছে কেন্দ্রের দুই প্রতিমন্ত্রীর। যার অন্যতম বাবুল।

বাবুলের রাজনীতিতে আগমন এবং উত্থান যেমন নাটকীয়, তেমনই নাটকীয় হতে পারে তাঁর ইচ্ছা-নিষ্ক্রমণ। রাজনীতি ছেড়ে দিলে আসানসোলের সাংসদকে তাঁর সাংসদের পদও ছেড়ে দিতে হবে। বাবুলের পরিচিত এবং হিতৈষীরা মনে করছেন, তেমন হলে সাংসদের পদ ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না তিনি। ঘটনাচক্রে, বাবুলের সঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সম্পর্কের টানাপড়েন দলের গণ্ডি ছেড়ে গত কয়েকদিনে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়ার পর বাবুল যে ফেসবুকপোস্ট করেছিলেন, তা নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন দিলীপ। বাবুল আবার ফেসবুকেই তার শ্লেষপূর্ণ জবাব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: যিনি বাংলাকে টুকরো করার কথা বলেছেন, তাকেই মন্ত্রী করা হল- বারলা প্রসঙ্গে কটাক্ষ মহুয়ার

বাবুলের সঙ্গে বাদানুবাদের ফলে দিলীপ দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে শো-কজ করাতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছে বাবুল শিবির। তাদের ধারণা, সেই অনুমান থেকে বাবুল তার আগে রাজনীতিই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। শোনা যাচ্ছে বাবুল এখন মূলত দুইটি পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন। এক রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া আর দুই বিজেপি ছেড়ে দেওয়া। আর এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রেই চলে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল। বাবুলকে বেশ পছন্দ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ঝালমুড়ি তার প্রমাণ। বাবুল নানান সময়ে তৃণমূল, তথা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেও মমতা নিজে যেমন সেসব নিয়ে সরব হননি তেমনি তৃণমূলেরও কাউকে দেখা যায়নি বাবুলকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করতে।

বাবুলের মন্ত্রীত্ব যেতে মমতা নিজেই প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘ওরা আবার কী দোষ করল!’ মানে বাবুল আর দেবশ্রী।  যা শুনে ঘনিষ্ঠদের কাছে সন্তোষ গোপন করেননি বাবুল। দ্বিতীয়জন প্রথম থেকেই সংঘঘনিষ্ঠ। সেই সুবাদেই রায়গঞ্জ থেকে ভোটে জিতে প্রথমবার সাংসদ হয়েই মন্ত্রী হয়েছিলেন দেবশ্রী। তাই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসবেন এটা না ভাবাই উচিত হবে। কিন্তু বাবুলের সঙ্গে সঙ্ঘের কোনও যোগ নেই। মোদীই তাঁকে রাজনীতির জগতে এনেছেন, সাংসদ করেছেন, মন্ত্রী করেছেন, এখন সেখান থেকে সরিয়েও দিয়েছেন। তাই বাবুলের বিজেপি ছাড়ার ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও সমস্যা নেই। শোনা যাচ্ছে বাবুল রাজনীতি ছাড়লে আসানসোলের সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন।

আর এই পরিবর্তনের মধ্যেই বড় খবর মিলেছে তৃণমূল সূত্রে। বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। যার পরিণতিতে বাবুলের পদ্মফুল থেকে জোড়াফুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। মনে করা হচ্ছে এখনই না হলেও বাবুল চাইলে যখন খুশি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। সেই ছাড়পত্র মমতা নাকি তাঁকে দিয়ে দিয়েছেন। বিজেপি ছেড়ে বাবুল তৃণমূলে পা রাখলে তাই ঘাসফুলের লাভের পাল্লাই ভারী হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মমতা বাবুলকে তাঁর দলে টেনে নিতেই পারেন। কেননা কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকার সময়ে বাবুল কলকাতার মেট্রো রেল প্রকল্পগুলি নিয়ে মোদীর কাছে দ্রুত রূপায়নের কথা বলেছিলেন। তাঁর কেন্দ্রের সেই মন্ত্রীত্বের অভিজ্ঞতা আর জনমানসে থাকা তাঁর প্রতি ভালবাসাকে এখন নিজের দিকেই টানতে চাইছেন মমতা। বাবুল কী করবেন সেটা তাঁকেই ঠিক করতে হবে। তবে একথা সত্যি যে বিজেপিতে বাবুলের আর কিছু পাওয়ার নেই।

আরও পড়ুন: ২১ জুলাই থেকে দৈনিক হচ্ছে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest