Duare 'Ration' in the state starting from this month, state guidelines issued

চলতি মাসেই রাজ্যে ‘দুয়ারে রেশন’, পৌঁছবে মাসে একবারই, গাইডলাইন জারি রাজ্যের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই চালু হচ্ছে দুয়ারে রেশন প্রকল্প (Duare Ration Sceme)। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবেই কাজ শুরু করছে রাজ্যের দুয়ারে রেশন প্রকল্প। তবে বেশ কিছু বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হইনি বলেই জানাচ্ছেন রেশন ডিলারদের সংগঠন। এরই মধ্যে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা কমিশন বাড়াল রেশন ডিলারদের সংগঠন (Ration Dealers Association)। বায়োমেট্রিক করতে হলে মিলবে আরও ২৫ টাকা কুইন্টাল প্রতি। এখন কমিশন (Commission) মেলে প্রতি কুইন্টালে ৭৫ টাকা করে৷ ডিলারদের দাবি ছিল সব মিলিয়ে ২০০ টাকা। সেটি হয়েছে আপাতত ১২৫ টাকা। রাজ্য সরকার নোটিফিকেশন জারি করে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

চলতি মাসে রাজ্যের ১৫ শতাংশ রেশন দোকানে দুয়ারে রেশন পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হচ্ছে।খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হবে। সে কারণেই জেলাগুলোতে গাইডলাইন পাঠিয়েছে রাজ্য খাদ্য দফতর। রেশন ডিলারদের কীভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হবে, তার রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে খাদ্য দফতর।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কি কি বলা হয়েছে এই গাইডলাইনে

  • এই গাইডলাইনে উল্লেখ রয়েছে, প্রথমেই রেশন ডিলারদের তাঁদের নিজের এলাকার ভৌগলিক অবস্থান ছাড়াও কত সংখ্যক উপভোক্তা রয়েছেন, সেটি ছকে ফেলতে হবে। তারপর বিবেচনা করে এক দু’‌জন কর্মীকে নিয়ে ভাড়া গাড়িতে করে উপভোক্তাদের বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেবেন।
  • উপভোক্তাদের প্রাপ্য পরিমাণ অনুযায়ী তাঁদের ই-‌পস যন্ত্রের মাধ্যমে যথাযথভাবে বায়োমেট্রিক হওয়ার পরেই রেশনের খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করতে হবে। গ্রাহকদের সমস্ত খাদ্যশস্য একবারই দিতে হবে। পরিবারের যে কোনও একজন সদস্যের বায়োমেট্রিক হলেই প্রকল্পের অধীনে থাকা পরিবারের সকল সদস্যরা বাড়িতেই তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যশস্য পাবেন। তবে রেশন সরবরাহের দিন কোনও গ্রাহক যদি বাড়িতে উপস্থিত না-‌থাকেন, সেক্ষেত্রে রেশনের দোকান যেদিন খোলা থাকবে, সেদিন তিনি সেখানে গিয়ে রেশন তুলতে পারবেন।
  • সেক্ষেত্রে রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের নির্ধারিত করা দিনেই রেশন দোকান খোলা থাকবে। আর যেদিন রেশন বাড়িতে দেওয়ার দিন স্থির করা হবে, সেদিন গ্রহীতারা ডোরস্টেপ ডেলিভারির মাধ্যমে বাড়িতেই রেশন পাবেন।এক্ষেত্রে যদি কোনও এলাকায় মোবাইলের নেটওয়ার্ক কাজ না-‌করে, সেক্ষেত্রে রেশন ডিলারকে ই-‌পস মেশিনে বিভিন্ন ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের সিম নিতে হবে।
  • রেশন ডিলারদেরই খতিয়ে দেখতে হবে যে, নির্দিষ্ট এলাকায় কোন সংস্থার ইন্টারনেট পরিষেবা ভাল কাজ করছে। এক্ষেত্রে দুয়ারে রেশন প্রকল্পের অধীনে খাদ্যশস্য বিতরণের কাজ করার জন্য রেশন ডিলারদের প্রাপ্য কমিশন রাজ্য সরকার বিবেচনা করবে।
  • যদিও এই গাইডলাইনে বলা হয়েছে যে, দুয়ারে রেশন প্রকল্পে খাদ্যশস্য সরবরাহের জন্য ডেলিভারি ভ্যান কিনতে ভর্তুকির আকারে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে যথাসময়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করবে রাজ্য।
  • গাইডলাইন আরও বলা হয়েছে যে, প্রত্যেকটি এলাকাকে একাধিক ক্লাস্টারে ভাগ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি ক্লাস্টারে খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন ধার্য করতে হবে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুয়ারে রেশন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য শস্য বিতরণ করা হবে। আর প্রতি শনিবার রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে। এক্ষেত্রে যারা কোনও জরুরি কারণে বাড়িতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন না, তাঁরা ওইদিন রেশন দোকানে গিয়ে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।

তবে কমিশন বাড়লেও এখনও সন্তুষ্ট নয় রেশন ডিলারদের সংগঠন  (Ration Dealers Association)। দুয়ারে রেশন (Duare Ration Sceme), অর্থাৎ মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে যাবে রেশন। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়েই দরকার রেশন ঘরে ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে গাড়ি। আর এই গাড়ি কেনার জন্যে অর্থ কে দেবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে মতান্তর। রেশন ডিলার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, “ব্যাঙ্ক থেকে ধার করা টাকায় গাড়ি কিনব না। প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করে আমাদের পক্ষে গাড়ি কেনা সম্ভব নয়।”

ডিলারদের (Ration Dealers) এই বক্তব্য মানতে নারাজ খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকার গতিধারা প্রকল্পের আওতায় এক লক্ষ টাকা দিচ্ছে। সেই টাকায় গাড়ি কেনানোর ব্যবস্থাও রাজ্য সরকার (West Bengal Govt) করে দেবে। আর বাকি টাকা দিয়ে যিনি গাড়ি নেবেন তিনি তো তার মালিক হয়ে যাবেন। রেশন সরবরাহের পাশাপাশি সেই গাড়িকে অন্য সময়ে তিনি কাজে লাগাতে পারবেন। আমরা তো সেই কাজে বাধা দিতে যাব না।”

ইতিমধ্যেই গাড়ি কেনার ব্যাপারে ১ লক্ষ টাকা সাহায্যের কথাও নোটিফিকেশন জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রেশন ডিলারদের সংগঠনের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে, তাদের কমিশনের অঙ্ক ২০০ টাকা করে দিতে হবে। বর্তমানে কমিশন অবশ্য ৭৫ টাকা করে দেওয়া হয়। বাড়ি গিয়ে রেশন সরবরাহের জন্যে কর্মী ও অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে ১২৫টাকা বর্ধিত চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পণ্য সরবরাহের জন্যে হ্যান্ডলিং চার্জ দাবি করা হয়েছে৷ কারণ হিসাবে বিশ্বম্ভর বাবু জানিয়েছেন, রেশন দোকান বা গোডাউন থেকে কোনও বাড়িতে পণ্য সরবরাহ করতে গেলে কিছু পণ্য নষ্ট হয়। তাই হ্যান্ডলিং চার্জ দাবি করা হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest