Foreign Secretary Harsh Vardhan Shringla says, Engagement with Taliban will be limited

তালিবানের সঙ্গে ‘সীমিত সম্পর্ক’ বজায় রাখবে ভারত, বিনিয়োগ বাঁচাতে ঘোষণা বিদেশ সচিবের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

আলোচনার দরজা খুললেও তালিবানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি নেবে নয়াদিল্লি। শনিবার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কাতারের রাজধানী দোহায় তালিবানের সঙ্গে ভারতের কোনও সুদৃঢ় আলোচনা হয়নি।’’ ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের নয়া শাসকদের সঙ্গে ‘সীমিত সম্পর্ক’ বজায় রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কাতারের রাজধানী দোহায় ভারতীয় দূতাবাসে মঙ্গলবার তালিবান নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতে আসতে ইচ্ছুক সে দেশের নাগরিক, বিশেষত সংখ্যালঘুদের নয়াদিল্লিতে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের আবেদন বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে তালিবান।

দোহার ওই বৈঠক ভারতের এত দিনের কাবুল-নীতির থেকে অনেকটাই আলাদা বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। পূর্বতন মনমোহন সিংহ বা অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার কখনওই তালিবানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দরজা খোলেনি। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যত বাধ্য হয়েই নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তালিবানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হয়েছে বলে ওই অংশের মত। কারণ,  শেষ ২০ বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার আফগানিস্তানে বিনিয়োগ করেছে ভারত।

ভারত সরকারের ওয়েবসাইটেই রয়েছে, আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের স্তম্ভ সংসদ ভবন তৈরি করে দিয়েছিল নয়াদিল্লি। খরচ হয়েছিল মোট ৯৭০ কোটি টাকা। সেই সংসদ ভবনে একটি ব্লক রয়েছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে। মোদী একাধিকবার আফগানিস্তানে গিয়েছেন। সে দেশের সংসদ ভবনে বাজপেয়ীর নামে একটি ব্লকের উদ্বোধন করেছেন। শুধু তাই নয়, হেরাট প্রদেশে সালমা জলাধারের উদ্বোধন হয়েছে তার হাতেই, ২০১৬ সালে। নামকরণ হয়েছে ভারত-আফগান বন্ধুত্বের জলাধার।

শুধু তাই নয়, ভারত সরকার আফগানিস্তানকে ২০০টি মিনিবাস, ৪০০ বাস, ১০৫ সরকারি গাড়ি, ২৮৫টি সেনার গাড়ি, পাঁচটি শহরে ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স, তিনটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান উপহার হিসাবে দিয়েছিল। তৈরি করে দিয়েছিল জরঞ্জ-দেলারাম সড়ক, যাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ কোটি ডলার। এই রাস্তাই এখন আফগানিস্তানের মূল যোগাযোগের মাধ্যম। দক্ষিণের কন্দহর, পশ্চিমের গজনী ও কাবুল, উত্তরের মাজার-ই-শরিফ ও পশ্চিমের হেরাটের মধ্যে এই রাস্তা যোগাযোগ তৈরি করেছে। এটি তৈরি করেছেন ৩০০ ভারতীয় ইঞ্জিনিয়র। কাজ চলাকালীন তাঁদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুও হয়েছে। ভারতের কর দাতার অর্থে তৈরি সেই সব কিছুই এখন তালিবানি নিয়ন্ত্রণে।

মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই ঘরোয়া রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা দাবি তুলেছেন, ‘‘কেন্দ্র আগে স্পষ্ট করুক, এখনও তারা তালিবানকে জঙ্গিগোষ্ঠী মনে করে কি না।’’ এই পরিস্থিতিতে বিদেশ সচিবের মন্তব্য ভারতের সাবধানী পদক্ষেপের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest