চাকরি থেকে মানুষের অবসরে যাওয়ার কথা সর্বজনবিদিত। কিন্ত এক ইঁদুরের অবসরের খবর, অবিশ্বাস্যই শোনায়। তবে এমনটিই ঘটছে কম্বোডিয়ায়। স্থলমাইন শনাক্ত করে স্বর্ণপদক পাওয়া ইঁদুর ‘মাগাওয়া’ অবসরে যাচ্ছে। আফ্রিকান এই ইঁদুর পাঁচ বছরে ৭১টি স্থলমাইন ও কয়েক ডজন অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করেছে।
স্থলমাইন খোঁজা স্বর্ণপদকজয়ী ইঁদুর মাগাওয়া। কাজের দক্ষতার সুবাদে সে পেয়েছে ‘বাহাদুর ইঁদুর’ খেতাব। তবে এই কাজটি আর চালাবে না মাগাওয়া। কারণ অবসরে যাচ্ছে সে।

আরও পড়ুন : ‘তেল-গ্যাস বিক্রিতে ডলার ব্যবহার করবে না রাশিয়া’

মেটাল ডিটেক্টরের চেয়েও দ্রুত কাজ করতে পারে এই ইঁদুর। একটি টেনিস কোর্টের সমান বড় জায়গা তল্লাশি করতে মাগাওয়ার সময় লাগে মাত্র আধ ঘণ্টা। ২০২০ সালে কর্মজীবনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মাগাওয়াকে স্বর্ণপদক দেয় ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা পিপলস ডিসপেনসারি ফর সিক অ্যানিমেলস-পিডিএসএ।
তবে বয়সের ভারে বৃহদাকার ইঁদুরটির গতি অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছে তাকে দেখভালকারী মালেন। তাই তার বিশ্রাম প্রয়োজন।

বিষয়টি মাথায় রেখেই তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে আফ্রিকার তানজানিয়ায় জন্মগ্রহণ করে মাগাওয়া। আর ২০১৬ সালে সেখান থেকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে আসা হয় তাকে, তখন থেকেই স্থলমাইন খোঁজার কাজে যুক্ত হয় সে। বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত করে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে মাগাওয়া।
প্রশিক্ষক মেলেন আরো বলেন, ‘মাগাওয়া মাঠে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেছে। সে অনেক দ্রুত কাজ করে এবং সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোনো বিষয় বিপজ্জনক কিনা।’ তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে সে ১ লাখ ৪১ হাজার বর্গমিটার জায়গাকে নিরাপদ করেছে।

মাগাওয়া সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় একটু বড় আকৃতির। তার জন্ম আফ্রিকার তানজানিয়ায়, ২০১৪ সালে। তখন তানজানিয়াভিত্তিক বেলজিয়ামের দাতব্য প্রতিষ্ঠান আপোপো তাকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে তাকে পাঠানো হয় কম্বোডিয়ার মাইন অ্যাকশন সেন্টারে। সেখানে ‘হিরো র‌্যাট প্রোগাম’-এর অধীনে মাইন খোঁজা শুরু করে মাগাওয়া।

আরও পড়ুন : ভাইরাল ভিডিওই ডেকে আনল অশান্তি! থানা পুলিশে জেরবার কাকলী ফার্নিচারের মালিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *