Site icon The News Nest

বর্ষাকালে ত্বকের কয়েকটি সাধারণ সমস্যা ও তার চটজলদি সমাধান

monsoon skincare

The News Nest: বর্ষাকালের থেকে রোমান্টিক ঋতু আর হয় নাকি! কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই সময় এমন কিছু ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায় যে বেশ কিছু ত্বকের (skin) সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে বর্ষার মজা একেবারে মাঠে মারা যায়। বিশেষ করে এই সময় তো মহিলাদের নানা রকমের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সঙ্গে লেজুড় হয় আরও নানা রোগও। তাই সময় থাকতে-থাকতে বর্ষাকালীন রোগ-ব্যাধি এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে না নিলে তো বিপদ! তাই বর্ষাকালে ত্বকের সৌন্দর্য বজায় থাকুক, এমনটা যাদি চান, তা হলে চোখ রাখুন বাকি প্রতিবেদনে।

আদ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক ভাবেই এই সময় খুব ঘাম হয়। ফলে ক্ষতিকর সব ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস এসে ভিড় জমায় আমাদের ত্বকের উপরে, যে কারণে facial folliculitis নামে এক ধরনের ত্বকের রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে চুলের গোড়ায় প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাত্রাতিরিক্ত হারে চুল পড়তে শুরু করে। সঙ্গে লেজুড় হয় ব্রণ এবং রিংওয়ার্মের মতো ত্বকের রোগও। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াটা জরুরি। কিন্তু সাবধান হবেন কীভাবে, তা জানেন কি? এক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে, তাহলেই কেল্লা ফতে! কী কী নিয়ম মানতে হবে?

আরও পড়ুন: চুলে বা মুখে কখনও কালো জিরের তেল লাগিয়ে দেখেছেন? এর কত উপকার জানেন?

ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশেন
ভুলেও ভেজা পোশাক পরা চলবে না। আর যদি দিনে বার দুয়েক স্নান করতে পারেন, তাহলে তো আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কারণ, বারে-বারে স্নান করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের সংখ্যা কমবে। ফলে নানা রোগ-ব্যাধির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও আর থাকবে না। বর্ষাকালে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, তা হল এই সময় পাবলিক টয়লেট ব্যবহার না করাই উচিত। তাতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশেন আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
বর্ষার (monsoon) সময় কোনও কারণে যদি ত্বক আর্দ্রতা কমে যায়, তাহলেও কিন্তু নানা ধরনের ত্বকের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে মুখ-হাতে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে মিনিটদুয়েক মালিশ করতে ভুলবেন না যেন! সেই সঙ্গে দিনে দশ-বারো গ্লাস জল খেতে হবে, তা হলেই ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।

মাত্রাতিরিক্ত হারে ঘাম হওয়া
Hyperhidrosis নমে এক ধরনের রোগের কারণে এই সময় অনেকেরই হাতের তালুতে, পায়ের পাতায়, স্ক্যাল্পে এবং মুখে খুব ঘাম হয়, যে কারণে শরীরের এই সব অংশে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এতটাই বেড়ে যায় যে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে দিনে বারদুয়েক স্নান করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, নিজেকে যত পরিষ্কার রাখবেন, ততই মঙ্গল। তাতে ব্য়াকটেরিয়া আর ফাঙ্গাসগুলি মারা পড়বে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা আর থাকবে না।

ত্বকের জেল্লা কমে যায়
বর্ষাকালে অনেকেরই মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যায়, যে কারণে মুখে-হাতে দাগ-ছোপ প্রকাশ পায়। সঙ্গে ত্বকের জেল্লাও কমে চোখে পড়ার মতো। এমন ধরনের সমস্যা কমাতে লেজার থেরাপির জুড়ি মেলা ভার। তবে বেশ কিছু ঘরোয়া ফেসপ্যাকের এর সাহায্যেও Hyperpigmentation-এর মতো সমস্যা কমিয়ে ফেলা সম্ভব। এক্ষেত্রে মুলতানি মাটি, লেবুর রস এবং গোলাপ জল দিয়ে তৈরি পেস্ট, মুখে লাগালে যেমন উপকার পাওয়া যায়, তেমনি সারা মুখে প্রতিদিন বার তিনেক আলু ঘষলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ছোট একটা আলুর টুকরো নিয়ে মিনিটপাঁচেক সার্কুলার মোশনে ঘষতে হবে। এরপরে মিনিটদেশেক অপেক্ষা করে হালকা গরম জল দিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

চুল খুব জট পরতে পারে
বর্ষাকালে হিউমিডিটি বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেরই চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বিশেষত, এত জট পরে যে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ে এমন সমস্যার খপ্পর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কীভাবে? হাফ কাপ জলে এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে চুল ধোওয়া শুরু করুন। তাতে স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বাড়বে, যে কারণে চুল পড়ার হার তো কমবেই, সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বাড়বে চোখে পড়ার মতো। চুলে জট পরার মতো সমস্যাও দূরে পালাবে।

নখের সংক্রমণ
নখের নীচে ময়লা এবং ঘাম জমার কারণে সেখানে নানা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস এসে ভিড় জমায়। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা যায় বেড়ে। তাই তো বর্ষাকালে ভুলেও নখ বড় করা উচিত নয়। বরং যত ছোট নখ রাখবেন, ততই এমন ধরনের রোগ-ব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। আজকাল বাজারে নানা ধরনের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে ভাল করে হাত-পা ধুয়ে নিয়ে নখের চারপাশে যদি এই পাউডার লাগাতে পারেন, তা হলে নখে কোনও ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

আরও পড়ুন: র্ষাকালে নরম আর মসৃণ চুলের জন্য বাড়িতেই করে নিন ডিপ কন্ডিশনিং, জানুন পদ্ধতি

Exit mobile version