সমস্ত অভিযোগ বেআইনি, ডাক্তার কাফিল খানকে মুক্তির নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

অবশেষে পেলেন জামিন পেলেন ডঃ কাফিল খান। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে৷ জাতীয় নিরপত্তা আইনে মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে৷ আজ অর্থাত্‍ মঙ্গলবার সেই বিশিষ্ট চিকিত্‍সক কাফিল খানকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট৷ জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলাও খারিজ করে দিল আদালত৷

আরও পড়ুন: “পড়েছে ডাক চলেছি আমি তাই…” রবি ঠাকুরের গানে বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন শর্মিষ্ঠা

কাফিল খানকে আইপিসি ধারা ১৫৩ (এ)-তে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভিত্তিতে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়৷ এই ধারাতেই কাফিল খানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল৷ পরে অতিরিক্ত ১৫৩ বি, ৫০৫ (২) ধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়৷ জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গত ১৬ অগাস্ট কাফিল খানকে আটক করে রাখার মেয়াদ আরও ৩ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা NSA-এর আওতায়, যদি রাষ্ট্র মনে করে কোনও ব্যক্তি জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক, তা হলে তাকে ১২ মাস পর্যন্ত কোনও চার্জ ছাড়াই আটক করে রাখতে পারে৷

গত বছর ১০ ডিসেম্বর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিএএ বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাফিল খানকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷ এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারির তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়৷ মুম্বই থেকে সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর সেখান থেকে আলিগড় আনা হয় এই শিশু চিকিৎসককে। সেখান থেকে মথুরার কাছের এক জেলে বন্দি রাখা হয় কাফিল খানকে। আর সেখান থেকেই তাঁকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।

ডাক্তার কাফিল খান প্রথম খবরের শিরোনামে আসেন ২০১৭ সালে৷ তখন গোরক্ষপুরে বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে যখন একের পর এক শিশু মৃত্যু হচ্ছে৷ ওই হাসপাতালে তখন শিশু চিকিত্‍সক কাফিল খান। নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে এনে বহু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে সকলের চোখের মণি হয়ে উঠেছিলেন হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কাফিল খান। যদিও এর পরেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ভিলেন বনে যান কাফিল খান দোষীদের কঠোরতম সাজার আশ্বাস দেওয়ার পরেই সেই কাফিল খানকে রাতারাতি বাবা রাঘবদাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এনসেফ্যালাইটিস ওয়ার্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় যোগী আদিত্যনাথ সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিযোগও আনে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ৪০ বছরে এই প্রথম GDP-তে এমন ভয়াবহ ধস, বৃদ্ধি কমল ২৩.৯ শতাংশ