দিল্লিতে ডেকে নিয়েছে কেন্দ্র। একে কোভিড পরিস্থিতি, তার উপরে ঘূর্ণিঝড় যশের ধ্বংসলীলা। দুই দুর্যোগ সামলাতে রাজ্য যখন হিমশিম, তখনই মুখ্যসচিবের এই বদলির নির্দেশে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মমতার অভিযোগ, বাংলায় হার মেনে নিতে না পেরেই রাজ্য সরকারকে অপমান করছে কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হচ্ছে, মুখ্যসচিবের মতো সৎ এবং কর্মঠ ব্যক্তিকে অপমান করা হচ্ছে। হাতজোড় করে কেন্দ্রের উদ্দেশে মমতার অনুরোধ, “দয়া করে এই নোংরা খেলা খেলবেন না। আবেদন জানাচ্ছি, এই চিঠি প্রত্যাহার করুন। ওকে কাজ করতে দিন। মানুষের জন্য কাজ করতে দিন। আমরা টিম হিসেবে কাজ করছি।”মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওদের বলব, এই প্রতিহিংসা বন্ধ করুন। মুখ্য সচিবকে বদলির চিঠি প্রত্যাহার করুন”।

আরও পড়ুন : বাংলায় মোদীর ডাক বিরোধী দলনেতাকে, গুজরাতে নয় কেন, প্রশ্ন মোদীরাজ্যের বিরোধী নেতার

মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, এ তো আপনি আবেদন জানালেন। কিন্তু কেন্দ্রকে কি কোনও চিঠি দেবেন? রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করবে?জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, এটা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য কথা বলে বিষয়টা স্থির করবে। কিন্তু আমরা শুনলাম যে ওরা কোর্টে এবং সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে ক্যাভিয়েট করে রেখেছে। মানে ওরা আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমরা প্রথমে আবেদন করলাম। বলতে চাইলাম যে, আমাকে যা ইচ্ছা অপমান করুন, আমার অফিসারদের অপদস্ত করা বন্ধ করুন। আমরা চাইছি, এ ব্যাপারটা রাজনীতি দূষিত না করে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। দেখা যাক, ওনারা কী করেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সৎ এবং কর্মঠ মানুষকে একপেশেভাবে এই বদলির নির্দেশ দিয়ে অপমান করেছে কেন্দ্র। আমার এবং মুখ্যসচিবের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে।” মমতার প্রশ্ন,”একজন বাঙালি IAS বলে আলাপনের উপর এত রাগ কেন? আমি বাঙালি-অবাঙালি করতে চাই না। কিন্তু বাঙালি বলে এত অপমান? একটা তো সিস্টেম থাকবে?” সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, “বাংলা ছাড়া যারা অন্য রাজ্যেও মুখ্যসচিব (Chief Secretory) আছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে।

ওদের সম্মান করুন, ওরা অনেক পরিশ্রম করে। আপনি আমার সচিবদের অপমান করছেন। ওরা কেবল বাংলার মুখ্য সচিবকে অপমান করেছে তা নয়, দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্য সচিবকে অপমান করেছে। তাঁরা কি এটা ভালভাবে নিচ্ছেন? মনে রাখবেন, আইএএস-দের লবি রয়েছে, আইপিএস-দেরও লবি রয়েছে। তাঁরা চুপ করে থাকবেন না।সংবিধান বিরোধী, একপাক্ষিক এই সিদ্ধান্ত আসলে আমার সরকারের অপমান, মুখ্যসচিবের অপমান। কেন এমন করছেন? আমরা নিরঙ্কুশভাবে জিতেছি। সেটাই কি আপনার সমস্যা? ভোটের সময় তো কম কিছু করেননি? কেন মানুষের রায় মানছেন না? বাংলার জন্য মনে হচ্ছে আলাদা ‘মার্শাল ল’ চলছে।”

মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ব্যাপারটা আমার এত খারাপ লাগছে কী বলব! একটা ছেলে সারা জীবন এত কাজ করেছে, যাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, সততার সঙ্গে কাজ করেছে, তাঁর সঙ্গে এরকম করা হচ্ছে। এক সময়ে সাংবাদিক ছিলেন, বড় পরিবারের ছেলে, ওঁর স্ত্রী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ২৪ ঘণ্টা কাজ ছাড়া ও কিছু জানে না। সকাল ৭ টায় ফোন করলে ফোন ধরে, রাত ১২ টায় ফোন করলে ফোন ধরে।”

আরও পড়ুন : CAA-র নিয়ম তৈরি না হলেও মুসলিম দেশ থেকে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের বিজ্ঞপ্তি জারি MHA-র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *