শক্তির লিটমাস টেস্ট! বাম-কংগ্রেসের দশ লাখি ব্রিগেডে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপস্থিতি কি সম্ভব?

রবিবার ব্রিগেড সমাবেশ বামেদের। সেখানে তাবড় নেতারা উপস্থিত থাকলেও আজও বুদ্ধবাবুর কথা শুনতে চান কর্মী–সমর্থকরা।

শক্তির লিটমাস টেস্ট, তাই মরিয়া বামেরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছেন না। কিন্তু ঘুরে ফিরে সমর্থকদের মুখে একটাই প্রশ্ন, বুদ্ধবাবু কি আসতে পারেন? প্রত্যেকেই জানেন বুদ্ধবাবু অসুস্থ, দিন কয়েক আগেই জীবন-মরণ সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তবুও যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ, অন্তত একবার যদি তাঁর বার্তাটুকু শোনা যায়।

যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ব্রিগেড সমাবেশে আসার অনুমতি দিলেন না চিকিৎকরা। অন্তত শনিবার পর্যন্ত তেমন কোনও খবর নেই। শনিবার রাজ্য সিপিএম সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, বুদ্ধবাবু নিজেও আসতে চান ব্রিগেডে। কিন্তু বাধ সাধছে শরীরই। অবশ্য সেখানেও বিকল্প থাকছে। ভার্চুয়ালি তিনি কিছু বলতে পারেন কিনা সেদিকেও নজর থাকছে বাম নেতা-কর্মীদের। সূত্রের খবর, থাকতে পারে অডিও বার্তাও। অন্য সূত্রের খবর, ব্রিগেড সমাবেশে যোগ না দিতে পারলেও লিখিত বার্তা পাঠাবেন বুদ্ধদেব। সকলেই জানেন তাঁর একটি বিবৃতিই চাঙ্গা করে দিতে পারে নীচুতলার কর্মীদের। যদিও এ বিষয়ে কিছুই আগেভাগে বলতে নারাজ সিপিএম।

আরও পড়ুন: রাকেশকে নিয়ে বেসুরো রূপা, উনি মুখপাত্র নন,ঢোঁক গিলে বললেন দিলীপ

২০১৪ সালে ব্রিগেডে ১৮ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন বুদ্ধবাবু। ২০১৯ সালেও তাঁকে ব্রিগেডের মাঠে দেখা যায়। যদিও মঞ্চে উঠতে পারেননি। নাকে অক্সিজেন নল লাগানো অবস্থায় গাড়িতেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সেই উপস্থিতির ফলেই অক্সিজেন নিয়ে ফিরেছিলেন বাম নেতাকর্মীরা। আজ রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে আরও একবার বুদ্ধবাবুর বরাভয় বার্তাই শুনতে চায় সাধারণ মানুষ, তা যেভাবেই হোক।

এই বিষয়ে সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‌বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শুধু একটা নাম নয়। বরং তিনি একজন এমন নেতা যাঁর কথা শোনার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করে থাকেন বহু বাম নেতা–কর্মী–সমর্থকরা। তিনি ব্রিগেড সমাবেশে এলে আমাদের কাছে তা খুব খুশির খবর হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে চিকিৎসকদের উপর।’‌

জানা গিয়েছে, শরীরও আগের চেয়ে অনেক অশক্ত হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে চোখের সমস্যা। আরও একটি বড় সমস্যা হল, ধুলোয় অ্যালার্জি হয় বুদ্ধবাবুর। আর ব্রিগেড ময়দানে ব্যাপক ধুলো ওড়ে। সুতরাং তাঁর সেখানে যাওয়া কতটা উচিত হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মেডিক্যাল টিম।  ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের কারণে ডিসেম্বরেই হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাঁকে। জীবনসংকটে প়ড়ে ছাড়তে হয়েছে সাধের সিগারেট।

এই অবস্থায় আপাতত বুদ্ধদেবের সশরীর উপস্থিতি থাকবে না ধরে নিয়েই ব্রিগেডে সমাবেশের আয়োজন করছে সিপিএম।যদিও চমকের অভাব থাকছে না এবারের ব্রিগেডে। আসছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও। শোনা যাচ্ছে কংগ্রেস নাছোড় চেষ্টা করেছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে অন্তত মঞ্চে রাখার। সেই চেষ্টা বাস্তবায়িত হয় কিনা তা দেখতে মরিয়া কংগ্রেস সমর্থকরাও।

আরও পড়ুন: ব্রিগেডের মেনু রুটি -আলুর দম, লাড্ডু, বাড়ি বাড়িতে তৈরি হচ্ছে দশ লক্ষের খাবার!