অমানবিক যোগীরাজ্য! পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর কেমিক্যাল স্প্রে করার ভিডিও ভাইরাল

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

লখনউ: করোনার প্রকোপ রুখতে সমস্ত ভিনরাজ্য থেকে ভিটেতে ফেরা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু তার জেরে একেবারে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাসায়নিক দিয়ে চান করিয়ে দেওয়া হবে, তা কে জানত।

ভিডিওয়ে দেখা যায়, চোখ বন্ধ করুন। আপনার শিশুর চোখ ধরে থাকুন, বলুন বন্ধ করতে চেপে। পুলিশ অফিসার এমনই নির্দেশ দিলেন একাধিক ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের। রাস্তার উপর লাইন দিয়ে বসিয়ে পুরুষ-মহিলা-শিশুদের উপর স্প্রে করা হল জীবাণুনাশক।  যে স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন, বিশেষ পোশাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢাকা রয়েছে তাঁদের। কিন্তু পরনের জামাটুকু ছাড়া আর কোনও সুরক্ষার আবরণ নেই মাটিতে বসে থাকা মানুষগুলির শরীরে। জীবাণুনাশকে ভিজতে ভিজতেই কেউ রুমালে মুখ ঢেকে রেখেছেন। কেউ আবার নিজে ভিজছেন, কিন্তু হাত বাড়িয়ে বাচ্চার চোখ দু’টি ঢেকে রেখেছেন, যাতে জীবাণুনাশক কোনও ভাবে তার চোখে প্রবেশ না করে। বরেলির স্যাটেলাইট বাস স্ট্যান্ডের কাছে হওয়া এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের গতিতে ছড়ায়। প্রত্যেকের মনেই প্রশ্ন, এরকম অমানবিক আচরণ কী করে করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: করোনার জেরে অবশেষে পিছিয়ে গেল টোকিও অলিম্পিক, সামনে এল নতুন দিনক্ষণ

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের বন্দোবস্ত করা বাসে চেপে দিল্লি, হরিয়ানা এবং নয়ডা থেকে ওই সমস্ত মানুষ ফিরেছিলেন। কিন্তু বাস থেকে নামতেই বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। বরং মহিলা, শিশু সমেত ওই শ্রমিকদের রাস্তার এক পাশে উবু হয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়। পিঠের ব্যাগপত্রও নামানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি তাঁদের। সেই অবস্থাতেই হোস পাইপ থেকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় তাঁদের উপর। নোভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন ঘরে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, ঠিক সেইসময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগীর রাজ্য থেকে এমনই ঘটনা সামনে এল। ঘরে ফেরা শ্রমিকদের জীবাণুমুক্ত করতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে যদিও সাফাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গোটা ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তাদের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন নেটাগরিক ও রাজনীতিকদের একাংশ।

আরও পড়ুন:

নেটিজেন থেকে রাজনীতিকদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন এমন অমানবিকতা নিয়ে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘শ্রমিক বলেই কি এমন আচরণ? তা না হলে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশ থেকে যখন প্রবাসী ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হল, বিমানবন্দরে তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হল না কেন? এই দেশ কি শুধু ধনীদের?’ কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এ ভাবে ভাইরাস নির্মূল করতে চাইছেন, নাকি নিরীহ মানুষগুলোকে?’

ঘটনায় অবশ্য তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের। তিনি বলেন যে ভিডিওটি তাঁর দেখা হয়ে ওঠা হয়নি। বরেলিতে প্রত্যকে যারা আসছে তাদের সরকারি নির্দেশ মোতাবেক স্যানিটাইজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। নির্দেশ মোতাবেকই কর্মীরা কাজ করছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু এরপরেও বিতর্ক চাপা পড়েনি। পরে ডিএম বলেন যে তারা ভিডিওটি দেখেছেন। বরেলি নগর নিগম ও ফায়ার ব্রিগেডকে বাসগুলিকে স্যানিটাইজ করতে বলা হয়েছিল। অতি উত্সাহে একেবারে শ্রমিকদের ওপর রাসায়নিক ছিটিয়ে দেয় তারা। দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান ডিএম। আক্রান্তদের চিকিত্সা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মানবিক বাইচুং! লকডাউনে আটকে থাকা শ্রমিকদের আশ্রয় দিলেন নিজের বাড়িতে

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest